প্রতিদিনই হুহু করে বাড়ছেই পানি। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাড়ছে বানবাসীর সংখ্যা। বন্যার প্রবল পানির তোড়ে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশুপাখিসহ সহায় সম্পদ। সেই সঙ্গে ভেসে গেছে ধান চালসহ খাদ্যসামগ্রী। অনেকেই বসত ভিটার মায়া ছাড়তে না পেরে ঘরের ভিতর মাঁচা করে এবং টিনের চালে আশ্রয় নিয়েছে।
খাদ্য, চিকিৎসা ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবন্দি মানুষেরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ত্রাণ পেতে এবং পানিবন্দিত্ব থেকে উদ্ধারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষেরা। অনেকেই নৌকা ও ভেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটছে একটুখানি আশ্রয়ের খোঁজে। অপেক্ষাকৃত উঁচুস্থান ও সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনাতে আশ্রয় নিলেও সেখানেও পানি ঢুকে পড়ায় নতুন করে আশ্রয়ের সন্ধানে দিকবিদিক হন্যে হয়ে ছুটছে বানভাসী মানুষেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী জানান, গত সব রেকর্ডের চেয়ে এবছর বন্যার পানি ২৭ সে.মি. বেশি। যা ১শ বছরের রেকর্ড ভেঙে জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিপদসীমার ১৬১ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৮৮ সালে ১২২ সে.মি. ও ২০১৭ সালে ১৩৪ সে.মি. বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
চিনাডুলি ইউনিয়নের পূর্ব বলিয়াদহ গ্রামের ৭০ বছর বয়সী নাজির আহম্মদ জানান, পানির ধাক্কায় ঘরে বছরের মজুদ রাখা বেড়ের ধান, আলু-পেঁয়াজসহ সবকছিু ভাইসা গেছে। হের সাথে ভাইসা গেছে ১০টি মুরগি। ঘরডাও ভাইঙ্গে যাওয়ার অবস্থা। ডরে বউ পোলাপান গরু-ছাগল নিয়ে নাও দিয়ে পারে উঠছি। দুই দিন অইল না খাইয়্যে আছি। কই আশ্রয় নিমু, হেইডাও জানা নাই। রাস্তার ধারে হগলরে নিয়ে বয়ে আছি। আইজ খোলা আসমানেই রাইত কাটাইতে ওইবো।
জেলার ৭ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫২টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৬ উপজেলায় ৩ লাখ মানুষ।
ত্রাণ সংকট পুরো বন্যা কবলিত এলাকাজুড়ে। ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে বানভাসীদের মধ্যে।
খুলেন ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারমান আব্দুস ছালাম বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্ধ খুবই কম। এত অল্প ত্রাণ দিয়ে ব্যাপক দুর্গত মানুষের চাহিদা মেটানো অসম্ভব। আমার ইউনিয়নের ভাগে কতটুকু পড়েছে? ইউনিয়নের সকল লোকই পানিবন্দি। এত অল্প ত্রাণ দিয়ে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে হিমশিমে পড়ে যাচ্ছি।
জামালপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির জানান, আটকেপড়া বনভাসীদের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার চলছে। তার সথে ত্রাণের পরিমাণ দবাড়ানো হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
এসএম





