জটিলতা, নাটকীয়তা এবং নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে দেরিতে হলেও এইচএসসি ভর্তির ফলাফল ঘোষিত হলেও কাটেনি ভর্তি সংক্রান্ত জটিলতা। অদ্যাবধি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন আদৌ ভর্তি হতে পারবেন কিনা এই অনিশ্চয়তায়। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের জটিলতা সমাধানের কোন সুরহা স্থানীয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ কিংবা কলেজ কর্তৃপক্ষ কেউই দিতে পারছে না। সবার একই বক্তব্য ঢাকায় পাঠাতে হবে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা চিন্তাগ্রস্থ হয়ে ঘুরছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের দ্বারে দ্বারে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন কলেজে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মহিলা কলেজ এ পুরুষ শিক্ষার্থীর নাম চলে এসেছে। "ডিভিশনাল কোটা" নামক বিষফোঁড়া ভর্তিতে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রামে। শিক্ষার্থীর আবেদন তথ্য বিবরণীতে কোথাও কোন কোটার উল্লেখ নেই। কিন্তু ভর্তি ফলাফলে মেরিট লিস্টে নামের পাশে ডিভিশনাল কোটা লেখা রয়েছে। ওই সকল শিক্ষার্থী তাঁদের ফলাফলে উল্লেখিত কলেজে ভর্তি হতে গেলে বাঁধে বিপত্তি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে "ডিভিশনাল কোটার" শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। কিন্তু কোথায় ভর্তি হতে পারবে এ ধরনেরও কোন নির্দেশনা তারা দিতে পারছে না শিক্ষার্থীদের। তারা কেবল শিক্ষা বোর্ডের উপর দায় চাপিয়ে সেখানে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষাবোর্ড, মন্ত্রণালয়সহ ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল তারা কেন দিবেন? নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে না পারলে কোথায় ভর্তি হতে পারবেন তাও কেউ বলছেন না। এদিকে তারা স্ব-স্ব শিক্ষাবোর্ডে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ উপ-পরিদর্শক আবদুল হালিম বলেন, ডিভিশনাল কোটা সংক্রান্ত জটিলতার কথা আমরা শুনেছি। অনেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো আমরা ঢাকায় পাঠিয়ে দিচ্ছি। আশা করছি অচিরেই তার সমাধান হবে।
কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হতে পারে কিংবা শিক্ষার্থীরা আদৌ ভর্তি পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আগামী ৬ তারিখ অভিযোগগুলোর পুনঃ ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং তারা কলেজে ভর্তি হতে পারবে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে সে নির্দেশনা ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ কিছু জানেন না বলে অপারগতা প্রকাশ করে বোর্ডে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কিছু করতে না পারার অপারগতায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে। বুধবার ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রী পাঠ্যপুস্তক ভবনে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বইয়ের উদ্ধোধন শেষে বলেছেন, একাদশে ভর্তি নিয়ে যা ঘটেছে তা সবাই দেখেছে। এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি বলতে চাই, কোনো শিক্ষার্থীই ভর্তির বাইরে থাকবে না। সবার সমস্যার সমাধান করা হবে।
জেডআই





