নরসিংদীতে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ৮টা ৪২ মিনিটে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব দিকের সিগন্যাল পয়েন্টের অদূরে আরশীনগর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম বাবুল মিয়া। তিনি রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে।

তাৎক্ষনিকভাবে নিহত অন্যজন ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদেরকে নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। যাত্রাবিরতি শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে রওয়ানা দেয় ট্রেনটি।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব দিকের সিগন্যাল পয়েন্টের অদূরে আরশীনগর নামক স্থানে পৌছলে হঠাৎ ট্রেনের ইঞ্জিনটি কাত হয়ে বাম দিকে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রেনের ইঞ্জিনে বসে থাকা দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হয় আরো ১৫ জন।

রেলওয়ে স্টেশনের নতুন ৩নং লাইনের হোম সিগন্যাল নিকটবর্তী ফেসিং পয়েন্টের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটায় নরসিংদী শহরে উত্তরাংশের সঙ্গে দক্ষিণাংশের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ট্রেনের ইঞ্জিনে করে রায়পুরা উপজেলার খানাবাড়ী স্টেশনগামী মিজান নামের এক যাত্রী বলেন, ‘নরসিংদী স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার দুই মিনিট পরেই হঠাৎ ট্রেনটি বাম দিকে কাত হয়ে পড়ে যায়। আমি ডান দিকে চালকের সঙ্গে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই।’

তবে কী কারণে ট্রেনের ইঞ্জিনটি লাইনচ্যুত হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। খবর পেয়ে নরসিংদী পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জিয়াউল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাইনের কোনো জটিলতার কারণেই দুর্ঘটনাটি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রেনটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। তারপর বলা যাবে কেন দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এমকে