মিঠাপুকুরের বাতাসনে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলার আগুনে দগ্ধ মনোয়ারা বেগম অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন।

ঘটনার ৭ দিন পর মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মিঠাপুকুরে বাসে বোমা হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়জনে।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেজবাহুল হক জানান, মনোয়ারার শরীরের ৬১ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মনোয়ারা বেগমের স্বামী নুর আলম একজন সেনা সদস্য। তারা রাজধানীর কাফরুল মিরপুর-১৪ এর সেনাপল্লীতে ২২/২৫ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের লক্ষিপুয়ারপাড়ায়।

গত ১৩ জানুয়ারী মঙ্গলবার বোমা হামলায় শিকার হয়ে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মনোয়ারা বেগমকে প্রথমে রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পরে এবং বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সিএমইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে গত ১৩ জানুয়ারি মধ্য রাতে রংপুরের মিঠাপুকুরের বাতাসন গ্রামে যাত্রীবাহি একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই একশিশুসহ ৪ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় দগ্ধ তছিরন ও মেরিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওইদিন রাত সোয়া ১১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে তছিরন বেগমের (৬০) মৃত্যু হয়। মিনারা (২২) বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

বোমা হামলায় অপর নিহতরা হলেন- উলিপুরের রহিম বাদশা, রহিমা বেগম ও জেসমিন। তবে নিহত শিশুটির নাম জানাতে পারে নি পুলিশ।

জেআই