জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাংলাদেশ ভারত বিদুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি। এসময় তারা ভারতের ৪শ’ কেভি এবং বাংলাদেশের ২শ’ কেভি বিদ্যুৎ লাইন পরিদর্শন করেন। বিদ্যুৎ আমদানি এবং সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে তারা উপকেন্দ্রটি ঘুরে দেখেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ এবং সঞ্চালন কাজ এই তিন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান।

মঙ্গলবার সকালে তদন্ত কমিটি ভেড়ামারাস্থ রামকৃঞ্চপুর উপকেন্দ্রে এসে পৌঁছে। এর নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. আহমেদ কায়কাউস। সঙ্গে ছিলেন পাওয়ার সেল এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আহম্মেদ বেরুনী, ইজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও  আরইবির (প্রকৌশল) সদস্য বিপিডিবির প্রাক্তন চেয়ারম্যান খিজির খাঁন।

তদন্ত কমিটির প্রধান ড. আহমেদ কায়কাউস সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাক আউট উন্নত অনেক দেশেও হয়েছে। বহু দুর্ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাক আউটের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমরা ভালভাবেই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠেছি। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা হাইওয়ের মতো। বিদ্যুৎ আসছে এবং বিভিন্ন জায়গায় নামানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ দেখা যায় না। এখানে সমস্যা চিহ্নিত করা কঠিন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সব কিছুই কম্পিউটারাইজড। পাওয়ার সিস্টেমে প্রতি মিলি সেকেন্ডও রেকর্ড করা হয়। এই ব্যবস্থার কোথায় সমস্যা ছিল তা খতিয়ে দেখতেই আমরা উপকেন্দ্র এসেছি। শুধু এখানে নয় বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ এবং সঞ্চালন কাজ করে বিদ্যুৎ বিভাগ। তিন জায়গাতেই আমরা তদন্ত করা হবে।

এটা নাশকতা না দুর্ঘটনা এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, সব বিষয়ই সরকার শক্তভাবে মোকাবিলা করছে।

গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর হঠাৎ করেই ভেড়ামারাস্থ সাব স্টেশনে কারিগরি ক্রটি দেখা দিলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ভারতীয় বিদ্যুৎ। একই সময় সারা দেশে উৎপাদনে থাকা সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রও একযোগে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ধস নামে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। জাতীয় গ্রিড লাইন ফেল করে সারা দেশে দেখা দেয় চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়। স্মরণকালের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বন্ধ হয়ে যায় কুষ্টিয়াসহ সারাদেশের কলকারখানা। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ১০ ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।

জেআই