মুঠোফোনে যে ছবিটি দেখা যাচ্ছে তা এক মাস আগের। হাসিমাখা এই মুখ আর কোনো দিনই হয়তো ফিরে পাবেন না শেলী। তাঁর ঘুম ভেঙেছে দুর্বৃত্তের ছোড়া অ্যাসিডে। রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি l এক বছর আগে দেওয়া তালাকের প্রতিশোধ নিতে সাবেক স্ত্রী শেলী আক্তারের ওপর অ্যাসিড ছুড়ে মারেন সাবেক স্বামী মো. জাহাঙ্গীর। ঢাকার রূপনগর থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এ কথা স্বীকার করেছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন বিল্লাহ তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মোস্তাইন বিল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ভোর পৌনে পাঁচটায় অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওই দিনই শেলী আক্তার (২২) বাদী হয়ে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাঁর খোঁজে চট্টগ্রামে টানা অভিযান চালায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির রংপুরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, আসামিকে ঢাকার রূপনগর এলাকা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জাহাঙ্গীর অ্যাসিড নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন। পেশায় জাহাঙ্গীর অটোরিকশাচালক।
জাহাঙ্গীর অ্যাসিড কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাইন বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো তাঁর কাছ থেকে তথ্য পাইনি। পরে বিস্তারিত তদন্তে জানা যাবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অ্যাসিড-সহিংসতার মামলা ছাড়াও জাহাঙ্গীরের নামে কোতোয়ালি থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। তাঁকে আগামীকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ, সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) আবদুর রহিম, কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ।
পরে উপকমিশনারের কার্যালয়ের বাইরে গাড়িতে তোলার সময় আসামি জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শেলীর দেওয়া তালাক তিনি মানেন না। প্রতিশোধ নিতে সিএনজি অটোরিকশার ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড সংগ্রহ করে সেটি ছুড়েছেন।
গত সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড এলাকায় একটি বস্তিতে ঘুমন্ত অবস্থায় অ্যাসিডে দগ্ধ হন শেলী আক্তার ও তাঁর মা হোসনে আরা বেগম (৫৫)। ভোর পাঁচটার দিকে ঘরের বেড়ার ফাঁকা অংশ দিয়ে তাঁদের দিকে অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয়। এ ঘটনায় শেলীর মুখসহ শরীরের ১৫ শতাংশ এবং তাঁর মায়ের শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দুজনের চিকিৎসা চলছে।
বছর পাঁচেক আগে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শেলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা পলোগ্রাউন্ড এলাকার ওই বস্তিতেই থাকতেন। শেলীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শেলীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন জাহাঙ্গীর। দিন দিন এর মাত্রা বাড়তে থাকে। বছর খানেক আগে স্বামীকে তালাক দিয়ে মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন শেলী। তালাকের পর জাহাঙ্গীর সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে রংপুরে নিজের বাড়িতে রেখে আসেন জাহাঙ্গীর।
অ্যাসিডদগ্ধ শেলী ও তাঁর মায়ের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে প্রথম আলো। অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলোর সহায়তা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে তাঁদের চিকিৎসার খরচ দেওয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ গত বুধবার শেলীর বড় ভাই মো. শামীমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো।
এসএ





