যশোরের মনিরামপুরের পাড়ালা ঋষি পল্লীতে হামলাকারী স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সাঈদকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে যশোরের পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে হামলার শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন এসপি আনিসুর রহমান।

রবিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আরিফুল হক, মনিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ঋষি পল্লী পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ঋষি পল্লীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো হবে। তিনি ঋষি পল্লীর ১২ এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পুলিশি প্রহরায় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ঋষি পল্লীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ।

এদিকে, ঋষি পল্লীতে শনিবারের হামলার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার শিকার এক ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে দায়ের করা ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সাঈদকে। তাকে ধরিয়ে দিতে যশোরের পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

গতকাল পুলিশ এ মামলায় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন ইব্রাহিম হোসেন, মামুন, হিরো, খলিল, জিবনী খাতুন, রফিকুল ইসলাম, রাবু, মতিন, সোহেল, আরিফুল, কবির, ইশারাত, তাজাম্মুল ও শহীদ। এদের বাড়ি বাহিরঘরিয়া ও পাড়ালা কারিগরপাড়ায়। এরা সকলেই স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগ বা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানান। ইতিমধ্যে পুলিশ মোহাম্মদ সরদারের স্ত্রী জিবনী খাতুন, মাবুবুর রহমানের ছেলে আকবর হোসেন ও সাঈদুর রহমানের ছেলে জাহিদ হোসেনকে আটক করেছে।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে মনিরামপুর থানার ওসি তাহেরুল ইসলাম জানান, গতকাল দুপুর থেকে ওই ঋষি পল্লীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আরিফুল হক, মনিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ঋষি পল্লী পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ঋষি পল্লীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো হবে। তিনি ঋষি পল্লীর ১২ এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পুলিশি প্রহরায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান।

এমএম