ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবাধ বিচরণে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সীমান্তে সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়েছে। গরু পাচার করে নিয়ে আসা ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের নারীদের সঙ্গে প্রতারণা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও তথ্য পাচার করছে। এমন অভিযোগ তুলেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানরা।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মূলত ভারত থেকে গরু আনার সূত্র ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে আগতরা। লেখাপড়া না জানা ওইসব ভারতীয় নাগরিক দেশের অভ্যন্তরে সীমান্তের নারীদের ভালোবাসা বা বিয়ে করার কথা বলে সম্পর্ক তৈরি করছে। পরে এই সম্পর্কের অপব্যবহার করছে। এছাড়া নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সীমান্তে বিজিবি জওয়ানদের কর্মকাণ্ড, অবস্থান ও দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যায় তারা। এদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সোর্স হিসেবে কাজ করারও প্রমাণ রয়েছে। অনুপ্রবেশ করে কোনো ঘটনা ঘটিয়ে তারা সীমান্তের ওপারে চলে যায়। থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রৌমারীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ভারতীয় যেসব নাগরিক গরু নিয়ে আসে তারা মূলত কামলা (শ্রমিক)। গরু নামানো তাদের কাজ।

রৌমারীর সাহেবের আলগা সীমান্তের গরু ব্যবসায়ী কাবিল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখন আর গরু আনতে সীমান্তের ওপারে খুব একটা যাই না। কেননা আমরা সীমান্ত পার হলে বিএসএফ গুলি করে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরাই তাদের কামলা দিয়ে গরু পাঠায়। গরু নামানোর কাজে যেসব কামলা আসে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও মজুরি আমাদের পরিশোধ করতে হয়।’

একই সীমান্তের গরু ব্যবসায়ী সমশের আলী ও আবু বক্কর বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিক বা গরু নামানোর কাজে যেসব কামলা অনুপ্রবেশ করে তাদের যদি দেশে ঢুকতে দেওয়া না হয়, তাহলে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে দেশে অনুপ্রবেশ করে, এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ওই অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তৎপরতা শুরু করে দিয়েছি।’

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা বিজিবিধ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ওপরের নির্দেশ রয়েছে, অবৈধভাবে কোনো ভারতীয় নাগরিকের দেখা পেলেই গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু সীমান্তের সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তার করতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। আর এ কারণে বিষয়টি আমি গত এপ্রিলে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করি। যাতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাই সহযোগিতা করে।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যতালিকায় ওঠানো হয়েছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খোঁজ-খবর রাখতে বলা হয়েছে।’

এমআইএস