শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের ও মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। এসময় নিহত রিফাতের মা, বোন, চাচা-চাচীসহ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল বলেন, “বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দিনে দুপুরে আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে ‘০০৭’ গ্রুপের সদস্যরা। এঘটনায় আমি একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। প্রাথমিকভাবে মিন্নির যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে সেখানে মিন্নির ভুমিকায় সবাই প্রশংসা করলে আমি প্রাথমিকভাবে মিন্নিকে মামলার ১ নম্বর সাক্ষী করি।”

“পরবর্তিতে আরও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ায় মিন্নির ভূমিকা নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হয়। এছাড়াও নয়ন বন্ডের মায়ের কথায় আরো প্রকাশ্যে আসে মিন্নির আসল চেহারা। এরপর আমি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাই। পুলিশও তাদের তদন্তে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এতেই প্রতিয়মান হয় যে মিন্নিই এই খুনের প্রধান পরিকল্পনাকারী।” যোগ করেন তিনি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল হালিম দুলাল বলেন, “কিছুকিছু গণমাধ্যম আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ছেলে হারিয়েছি আমার পাশে না দাড়িয়ে তারা খুনিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

তিনি বলেন, “মিন্নির বাবা-মা আমার কাছে তাদের মেয়ের বিয়ের বিষয়টি গোপন করে আমার ছেলের সাথে তাদের মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। এই বিয়েই আমার ছেলের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মিন্নির বাবা মাকেও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

গত ২৫ জুন জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরিফকে (২৩) স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে জখম করে একদল যুবক। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। সেখানে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করছে। তার স্ত্রী মিন্নি তাকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

নিহত রিফাত শরীফ নিহত রিফাত শরীফ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা জানালেও নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজীর নাম বলেন।

২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

পুলিশ সুপারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ পর্যন্ত এ মামলায় এজাহারনামীয় সাতজন ও সন্দিগ্ধ সাতজনসহ ১৪ জনকে (মিন্নিসহ ১৫ জন) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, ৩ জন রিমান্ডে আছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে গুরুতর আহত করে একদল যুবক। রিফাতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা।

গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এনিয়ে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এমবি