প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো গতানুগতিক ও নিম্নবেতনভূক্ত কর্মচারীদের বঞ্চিত করায় পে-কমিশনের আমলা কমিটি সুপারিশমালা প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংযুক্ত ঐক্যফ্রন্ট।
সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি জনাব মোঃ শাহ্জাহান মিয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। তিনি বলেন,সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্নবেতনের আনুপাতিক হারই এ বৈষম্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া সচিবালয়ের অভ্যন্তরে কর্মরত প্রধান সহকারী ও উচ্চমান সহকারী সমপদের কর্মচারীদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করণসহ চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা হয়েছে।
অথচ বাইরের এ সকল পদে কর্মরতদের পূর্বের বৈষম্যমূলক পদেই রাখা হয়েছে। ইহা ছাড়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে চরম হতাশার সৃষ্টি করা হয়েছে।
৩ (তিন) দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংযুক্ত ঐক্যফ্রন্ট, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি হিসাব রক্ষণ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি, বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ বিভাগীয় কমিশনার অফিস তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ প্রধান সহকারী ও উচ্চমান সহকারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ স্টেনো টাইপিষ্ট সমিতি, মিনিস্ট্রিয়্যাল সার্ভিসেস এসোসিয়েশন, অডিট পরিষদ, বাংলাদেশ ওয়ার্ড মাস্টার সমিতি, বাংলাদেশ কার্য সহকারী সমিতি ও বাংলাদেশ গাড়ী চালক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময়ে স্ব স্ব বেসিক সংগঠনের ব্যানারে সরকারের নিকট বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার এ দাবীনামা উপস্থাপনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে।
তাদের দাবীনামাতে বলা হয়েছে,সচিবালয়ের সাথে সচিবালয়ের বাহিরের সকল অধিদপ্তর, দপ্তর, পরিদপ্তর, বিভাগ, জেলা, উপজেলাসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তণ ও বেতন বৈষম্য দূর করে পদবী ও বেতন স্কেল প্রদান করতে হবে।
দাবীনামাতে আরো বলা হয়, মহান জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ১ জুলাই,২০১৪ হতে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকারের দেয়া ১৯৭৩ সনের বেতন স্কেলের অনুরূপ বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে ১০টি গ্রেডে রূপান্তর করে ১:৫ অনুপাতে বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে হবে।
কর্মচারীদের শতভাগ সিলেকশনগ্রেড প্রদান সাপেক্ষে দাবীনামাতে বলা হয়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ন্যয় প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সকল কর্মচারীদের শতভাগ সিলেকশনগ্রেড প্রদান করতে হবে।
উন্নয়ন খাত, কার্যভিত্তিক, মাস্টার রোলের কর্মচারীদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে যোগদানের তারিখ থেকে সরকারি সকল সুবিধাসহ এস.এস.সি পাসসহ সকল চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের তৃতীয় শ্রেণীতে পদোন্নতি দিতে হবে এবং আউটসের্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।
দাবীনামাতে আরো উল্লেখ করা হয়, বর্তমান প্রস্তাবিত জাতীয় পে-কমিশন বৈষম্য থেকে বৈষম্যতর করার মাধ্যমে এ দেশের ২১ লক্ষাধিক কর্মচারীর ও তাদের সাথে জড়িত কোটি জনতাকে সরকারের মুখোমুখি দাড় করাবে। হতাশাগ্রস্থ কর্মচারীদের বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে বিরাট প্রভাব পড়বে এবং বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জন্য মরার উপর খড়ার গ্যাঁ হয়ে ক্যান্সারের সৃষ্টি হবে।
দাবীনামাতে সভাপতি উল্লেখ করেন, ২১ লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল বৈষম্যের অবসান করে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতঃ বাংলাদেশের সকল কর্মচারীদের কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এসএইচ





