বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকায় যৌতুকের দাবিতে নুপুর রাণী সাহা (২০) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে নিহতের শ্বশুর সুধীর সাহাকে (৫৮) আটক করেছে।

রোববার দুপুরে গৃহবধূর লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে পুলিশ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এই ঘটনায় নিহত নুপুর রাণী সাহার বাবা মন্টু সাহা বাদী হয়ে স্বামী দেবাশীষ সাহা, শ্বশুর অধীর সাহাসহ পাঁচজনের নামে বাগেরহাট মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নুপুর সাহা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বলভদ্রপুর গ্রামের মন্টু সাহার মেয়ে। তার শুভশ্রী সাহা নামের এক বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

মন্টু সাহা রোববার দুপুরে হাসপাতালে বসে বলেন, তিন বছর আগে নুপুরের সঙ্গে বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার অধীর সাহার ছেলে দেবাশীষ সাহার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তিনি জামাতাকে ধারদেনা করে নগদ ৭০ হাজার টাকা, দুই ভরি সোনার গহনাসহ অন্য মালামাল দেন।

বিয়ের কিছুদিন যেতেই জামাতা দেবাশীষ ব্যবসা করতে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এই যৌতুকের টাকার জন্য প্রায়ই তার মেয়েকে নির্যাতন করতেন। মেয়ের ওপর নির্যাতন করার কারণে তিনি মেয়েকে তার বাড়িতে এনে রাখেন। আটদিন আগে দেবাশীষ এসে আর যৌতুক নেবে না- বললে তিনি মেয়েকে স্বামীর সঙ্গে বাগেরহাটে পাঠান।

শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা নুপুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় শ্বশুরকে পুলিশ আটক করেছে। তিনি মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন।

বাগেরহাট মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমজান গাজী এই প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। নুপুর সাহার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে নুপুরের শ্বশুর অধীর সাহাকে ধরে ফেলে। এ সময় বাকিরা পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, ওই গৃহবধূর গলায় রশির দাগ পাওয়া গেছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের কাছে আটক অধীর সাহাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

ইআর