কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শত শত পরিবার পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসাবস করছে। খাড়া পাহাড়ের ঢালে ঘর তুলে মানুষ এমনভাবে বসতি গড়ে তুলেছে যে- দেখলেও ভয় লাগে।

সরেজমিনে দেখা গেছে- উপজেলার কাপ্তাই, রাইখালী, চিত্মরম, ওয়াগ্গা এবং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের সর্বত্র ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস গড়ে উঠেছে কাপ্তাই নতুন বাজারের ঢাকাইয়া কলোনিতে। এই ঢাকাইয়া কলোনিতে একটি 'ঘোনায়'ই বাস করছে প্রায় ১৮শ পরিবার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে।

কাপ্তাই উপজেলা সদর বড়ইছড়িতে এক থেকে দেড় বছর আগেও যেসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে কোন বসতি ছিল না সেখানে এখন শত শত পরিবার ঘর তুলে বসবাস করছে।

উপজেলা সদর বড়ইছড়ির শৈলজা পাহাড়ের পাশের পাহাড় পরিদর্শনে দেখা গেছে, শত শত পরিবার বসবাস করছেন। পাহাড় গুলো এতটাই খাড়া যে, কাপ্তাই-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দেখতেও ভয় লাগে। খাড়া পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে। মোটরের সাহায্যে প্লাস্টিকের মোটা পাইপে ঘরে ঘরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিভাবে এসব ঘরে বৈদ্যুতিক লাইন গেছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বড়ইছড়ি কর্ণফুলী নূরুল হুদা কাদেরী স্কুলের সামনে কথা হয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৫/৬ মহিলার সাথে। বিলকিছের নেছা নামে এক মহিলা জানান, তিনি দেড় বছর আগে এখানে ঘর তোলেন। এখন তার মেয়ে ও মেয়ের জামাই নতুন ঘর তৈরি করে বাসবাস করছেন। এখানে ঘর তোলার সময় প্রশাসন থেকে তাদের বাধা বা কোন ধরনের আপত্তি জানানো হয়নি বলেও তিনি জানান।

 কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজ এলাকার আলী হায়দার খান সড়কেও কয়েকটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠেছে। কর্ণফুলী স্টেডিয়াম থেকে মহিলা অধিদপ্তর পর্যন্ত পাহাড়ের উপরে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় বসবাস কোনভাবেই নিরাপদ নয় এবং যে কোন মুহূর্তে পাহাড় ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও নিরূপায় হয়ে অনেকে এখানে ঘর তুলে বাস করছেন বলে জানান।

কর্ণফুলী কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১০ বছর আগেও কর্ণফুলী কলেজ রোডের আশেপাশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছিল না; কিন্তু পরে একটি একটি করে ঘর উঠতে উঠতে এখন আর খালি জায়গা কলেজ রোড এলাকায় নেই। প্রথমে বাঁশের ঘর তোলা হলেও এখন অনেকে বিনা বাধায় বিল্ডিং তৈরি করছেন বলেও তিনি জানান। প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএম বেলাল চৌধুরী বলেন, উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শে কাপ্তাই উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ বসতির একটি তালিকা গত বছর তৈরি করেছে। তালিকা রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি দেখার জন্য জেলা প্রশাসক ঢাকাইয়া কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জেলা প্রশাসক আশ্বাস দেন বলে তিনি জানান।

ঢাকা, ৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই