জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। বন্যায় জেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছেন।

গত ২ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরো এক শিশু। এছাড়া পানি ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে জেলার অন্তত ৪ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে জানান জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ রিডার আব্দুল মান্নান।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বন্যার পানিতে জামালপুর সদর, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ও সরিষাবাড়িসহ ৭টি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৭২০ জন।

এরইমধ্যে জেলার সঙ্গে উপজেলাগুলোর বিভিন্ন রুটের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেললাইনে পানি ওঠায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়িসহ তলিয়ে গেছে কৃষকের পাট, রোপা আমন বীজতলা, সবজি বাগান, পুকুর ও ফসলি জমির মাঠ।

জেলার সবচেয়ে বেশি কবলিত এলাকা ইসলামপুরে পৌর এলাকাসহ ১২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। উঁচু জায়গাসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে মানবেতর জীবন-যাপন করছে তারা।

এদিকে, বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে। জেলা প্রশাসন থেকে যে পরিমাণ শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োজনীয় তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) রাসেল সাবরিন জানান, ইতোমধ্যে ২৬৭ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১৭০০ জনের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এমবি