দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের জন্যই সরকারের পৃষ্টপোষকতায় গুম-খুন ও অপহরণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন,  যারা গণতন্ত্র মানবাধিকার রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রাখতে পারত তাদেরকেই টার্গেট করে গুম-খুন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইয়ূথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিতবিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম-খুনের প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রহুল আমীন গাজী বলেন,  যে আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম মুছে ফেলতে পারে তাদের মন্ত্রীরা তো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র হজ্ব নিয়ে কটূক্তি করবেন এটাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমরা আশ্চর্য হই তখনই যখন, লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ধর্মপ্রান মুসলমানদের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। তখন  আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না সরকারের আসল উদ্দেশ্য কী?

রহুল আমীন গাজী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এই জলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ফুঁসে উঠছে। অচিরেই এজন্য সরকারের চরম মূল দিতে হবে।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। আর এখন মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলা করছেন। এর পরিণতি আপনাদের ভোগ করতেই হবে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক আমান উল্লাহ কবীর বলেন, গুম-খুনের বিরূদ্ধে ঘরে বসে প্রতিবাদ করে লাভ নেই। এর প্রতিবাদ করতে হবে রাস্তায়। 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটা ওয়াকওভার পেয়ে ডেসপারেট হয়ে উঠেছে। সামনের দিনগুলোতে তারা আরো বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করবে।

তিনি বলেন, দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেন না। সেই ৬০/৭০ শতাংশ মানুষের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর কি দায়-দায়িত্ব নেই? দায়িত্ব থাকলে তারা কি সেটি যথাযথভাবে পালন করতে পারছে? আওয়ামী লীগের কৌশলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বার বার পা দেয়। আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দীন সবুজ বলেন,  সরকারের আচরণ দেখে মনে হয় তারা কৃত্রিম সুখের সাগরে ভাসছেন। কিন্তু এই গুম-খুনের জন্য আপনাদেরকে জনগণের কাছে একদিন জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে প্রেসক্লাব সবসময় পাশে থেকেছে। সেজন্য গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার যে কোনো আন্দোলনে অতীতের ন্যায় প্রেসক্লাব জনগণের সঙ্গে থাকবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করীম বলেন, এই গুম-খুন আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডেরজন্য  আজ কথা বলার সময় নেই। এখন তীব্র প্রতিবাদ করার সময়। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এভাবে মানুষ গুম-খুনের শিকার হতে পারে না।

আইনের শাসন আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকায় এমনটা হচ্ছে। তাই স্বৈরাচারি সরকারের বিরূদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট কাজী সিরাজ,ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণসম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণসম্পাদক কাদের গনি চৌধূরী প্রমুখ।

এমএইচ, জেএ