কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ৪মার্চ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্’র পাঁচ দিন ব্যাপী স্মরণোৎসব। তবে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পর কোন স্পন্সর ছাড়াই এবার উদযাপিত হতে যাচ্ছে লালন স্মরণোৎসব।

হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন কোম্পানী গ্রামীণ ফোন একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে অনুষ্ঠানের স্পন্সর করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

অনুষ্ঠানকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য ইতিমধ্যেই দাওয়াত পত্র বিলি, মাজার চত্বরে আলোক সোজ্জা, মঞ্চ নির্মাণসহ আনুষাঙ্গিক প্রায় সকল কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছে অনুষ্ঠানের আয়োজক লালন একাডেমি।

জানা যায়, লালন ফকির তার জীবদ্দশায় প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় তার অনুসারিদের সঙ্গে নিয়ে স্মরণোৎসব পালন করতেন। এ ধারাবাহিকতায় লালন একাডেমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বছরে দুবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।

এর একটি হচ্ছে দোল পূর্ণিমায় (মার্চ মাসে) লালন স্মরণোৎসব। আরেকটি বাংলা পহেলা কার্ত্তিক (অক্টোবর মাসে) লালনের তিরোধান দিবস উপলক্ষে। এ দুটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতি বছর লালনের আখড়া বাড়ি কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লাখো মানুষের সমাগম হয়।

এ উৎসবকে ঘিরে দেশের দুর-দুরান্ত থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও দলে দলে মানুষ ছুটে আসেন লালনের আখড়ায়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন একাডেমি ৫ দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও দেখা যায় কয়েক দিন আগে থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে লালন ভক্ত ও বাউলরা লালনের আখড়া বাড়িতে আস্তানা গেড়ে বসেন।

যে কারণে অনুষ্ঠান শুরুর দুদিন আগে থেকে মোট পাঁচ দিন লালন একাডেমির পক্ষ থেকে প্রায় ১০ হাজার বাউলের থাকা ও তিন বেলা খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সামনের বিশাল মাঠ জুড়ে সামিয়ানা টাঙানো হয়। নির্মাণ করা হয় মঞ্চ। প্রতিদিন এখানে চলে আলোচনা আর সারা রাত লালন সঙ্গীতানুষ্ঠান।

আয়োজকরা জানান, বিশাল এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে গিয়ে তাদের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যায় হয় যার অর্ধেকই আসে স্পন্সর থেকে। বিগত কয়েক বছর ধরে পহেলা কার্ত্তিক লালনের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান (অক্টোবর মাসে) স্পন্সর করছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানী বাংলা লিংক। আর মার্চ মাসে দোল পূর্ণিমায় স্মরণোৎসবের স্পন্সার করে আসছে গ্রামীণ ফোন।

লালন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক জানান, প্রতি বছরের মত এবারও গ্রামীণ ফোন অনুষ্ঠান স্পন্সার করবে বলে মৌখিকভাবে তাদেরকে চুড়ান্ত করে। কিন্তু অনুষ্ঠানের একেবারেই শেষ মুহূর্তে এসে গ্রামীণ ফোন কোম্পানী তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে তারা এবার অনুষ্ঠানের স্পন্সার করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে গ্রামীণ ফোনের খুলনার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধসহ বর্তমান পলিটিক্যাল সিচুয়েশন অনুকূলে না থাকার কারণে আমরা এবার অনুষ্ঠার স্পন্সর থেকে সরে এসেছি।

এদিকে শেষ মুহূর্তে এসে অনুষ্ঠানের স্পন্সার করতে অপারগতা প্রকাশ করায় লালন একাডেমির পক্ষ থেকে গ্রামীণ ফোন কোম্পানীকে লিগ্যাল নোটিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একাডেমির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক এ লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন।

লালন একাডেমির সভাপতি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, এবার আমরা কোন স্পন্সার ছাড়াই বিশাল এই অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ করব বলে আশা রাখছি। বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হবে ৫ দিন ব্যাপী এই স্মরণোৎসব।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুস সামাদ প্রধান অতিথি থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠান শেষ হবে ৮ মার্চ। অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকছে লালন মেলা, আলোচনা সভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে ৬ মার্চ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সমাপনী দিন ৮ মার্চ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এআর