কোনো সরকারই সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদ মেনে বিচারপতি নিয়োগের নীতিমালা করেনি বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী (বার) সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. অজি উল্লাহ, সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, সহ-সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম ও শামীমা সুলতানা দিপ্তী প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও সর্বোপরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুপ্রিম কোর্টে মেধা সম্পন্ন বিচারিক সক্ষমতা, সৎ ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু, কোনো সরকারই এ কাজটি করেনি।

তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতোমধ্যে একটি রিট পিটিশনে গত ১৩ এপ্রিল রায়ে বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং বস্তুনিষ্ঠ করার প্রয়োজনের সাতটি যোগ্যতা নির্ণায়ক উল্লেখ করেছেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই সংবিধানের অষ্টম অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য থাকতে হবে।

সকল যোগ্যতাসম্পন্ন ইচ্ছুক প্রার্থীদের সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ প্রদান করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জয়নুল আবেদীন।

আইনমন্ত্রীর এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু, তিনি বিচারক নিয়োগের নীতিমালা বা নিয়োগের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের নির্দেশনা সম্পর্কে কিছুই বলেননি।

এমতাবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের বিগত ১৩ এপ্রিল দেওয়া রায়ের আলোকে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের নতুন বিচারপতি নিয়োগের জোর দাবি জানান তিনি।

এমএ