রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় গুলি করে দুজনকে হত্যার ঘটনায় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের এমপি পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির ব্যবহৃত অস্ত্রটির ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় সত্যতা প্রমাণিত হলে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের আবদেন করবে পুলিশ।
বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখায় সাংবাদিকদের সাথে একথা বলেন ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ডিবির তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং গাড়ি চালকের দেওয়া জবানবন্দির প্রেক্ষিতে রনি যে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাতে সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনিও জানিয়েছে তার পিস্তল থেকে গুলি ছুড়েছে। যে অস্ত্রটি দিয়ে গুলি করা হয়েছিল আদালতের অনুমতি নিয়ে সেই অস্ত্রটির ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় সত্যতা প্রমাণিত হলে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের আবদেন করবে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ১৩ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডে যানজটে পড়ে বিরক্ত হয়ে তিনি এলোপাতাড়ি গুলি চালান রনি। এতে রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও জনকণ্ঠ পত্রিকার অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আহত হন।
পরে ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম গত ১৫ এপ্রিল রমনা থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে একটি প্রাডো গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ-৩-৬২৩৯) শনাক্ত করা হয়। ওই গাড়ি থেকে গুলি ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর চালক ইমরানকে গ্রেফতার করে ডিবি।
এরপর ইমরানের জবানবন্দিতেই জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচিত হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইমরান।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৪ মে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩১ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে।
মামলার তদন্তের স্বার্থে রোববার বিকেলে পিনু খানের ন্যাম ভবনের বাসার গ্যারেজ থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়।
এমআর/এমকে





