পটুয়াখালীর লোহালিয়া খেয়া ঘাট থেকে বাউফল, দশমিনা, কাশীগঞ্জ এলাকায় অটোরিকশা চালান সোহাগ। বীমা কোম্পানিতে একটি জীবনবীমা করেছিলেন, যার একটি লভ্যাংশ পেয়েছিলেন চেকের মাধ্যমে। সেটি ক্যাশ করার জন্য সোহাগের দরকার ছিল একটি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট। সেজন্যই গত বছরের জুনে জনতা ব্যাংকের পটুয়াখালীর প্রধান শাখায় এক হাজার টাকা জমা দিয়ে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে ছিলেন।
অটোরিকশা চালান সোহাগ সেই অ্যাকাউন্টে সম্প্রতি ব্যাংকের সফটওয়্যারের ভুলে ১০ হাজার ৪২ কোটি কোটি টাকার জমা হয়েছিল।
তবে পটুয়াখালীর বাসিন্দা সোহাগ ফকির সেই টাকার মালিক ছিলেন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য। যা তিনি জানতেনই না। পরে লোকমুখে ও সাংবাদিকদের মুখে ঘটনা জেনে তিনি বিস্মিত হয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এত টাহা কোম্মে গোনে আইলে?
ঘটনাটি ঘটেছে এ বছরের ১৪ই ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পটুয়াখালী প্রধান শাখার কর্মকর্তারা দিন শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখতে পান একই ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ি শাখা থেকে অটোরিকশা চালক সোহাগের হিসাবে জমা হয়েছে ১০ হাজার ৪২ কোটি টাকা।
পরে অবশ্য জনতা ব্যাংক তাদের ভুল বুঝতে পেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা শুধরে নেয়।
জনতা ব্যাংকের পটুয়াখালী প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেছেন, অনলাইন ট্রান্সফারের সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুল বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের আইসিটি বিভাগকে জানানোর পর ভুল শুধরে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর ব্যাংকের ম্যানেজার তার কাছ থেকে চেকবই এবং ডিপোজিট বই জমা নিয়ে নেন বলে জানিয়েছেন সোহাগ। ব্যাংকে তার কোন লেনদেন নেই বলে এতে তার তেমন ক্ষতি হচ্ছে না বলে জানান সোহাগ।
খুব শিগগিরই সোহাগকে তার চেকবই এবং ডিপোজিট বই ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে বলেছেন ফরিদ আহমেদ।
এম আর





