রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিল না হলে ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় আধাবেলা হরতালের হুমকি দিয়েছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

‘গ্লোবাল প্রটেস্ট ডে ফর সুন্দরবন’ উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘সর্বপ্রাণ সাংস্কৃতিক শক্তি’ আয়োজিত এক সমাবেশে এই ঘোষণা দেন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেন, ‘রামপাল-ওরিয়ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ শতাধিক বাণিজ্যিক বনগ্রাসী, ভূমিগ্রাসী প্রকল্প ঘিরে ফেলেছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে। দেশ-বিদেশের সচেতন মানুষ, ইউনেস্কোর উদ্বেগ-বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে মহাজোট সরকার ভারতের এনটিপিসিসহ দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থে রামপাল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক হাতে পরিবেশ পদক, অন্য হাতে মৃত্যু পরোয়ানা ধারণ করছেন।’

কয়েকটি জরিপের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ রামপালে এই বিদ‌্যুৎ প্রকল্পের বিপক্ষে। যে প্রাণ-প্রকৃতির গুরুত্ব বোঝে, যার মধ্যে কাণ্ডজ্ঞান আছে, সে কখনও এ প্রকল্পটি মেনে নেবে না।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দখলদার এ গোষ্ঠীর কাছে সুন্দরবন তো বন নয়, একখণ্ড জমি। তারা সেই জমি দখল করতে চায়। তাদের মধ্যে আমি যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও রুশপন্থি দেখতে পাই, কিন্তু বাংলাদেশপন্থি কাউকে পাই না।’

২৬ জানুয়ারি হরতাল হলে তাতে নগরবাসীর সমর্থন চেয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বাসযোগ্য পৃথিবীকে যারা ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে দাঁড়াতে হবে। এ লড়াইয়ে বিজয়ী হলে আমরা পাব উন্নয়নের দিশা, যে উন্নয়ন প্রকৃতপক্ষেই জনগণকে গুরুত্ব দেবে।’

সমাবেশে অন‌্যদের মধ‌্যে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বক্তব্য রাখেন।

এই সমাবেশের আগে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে গানের দল ‘বেতাল’। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠক আহমেদ মনির উদ্দিন তপু, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও সংগীতশিল্পী কফিল আহমেদ।

এমই