ঝালকাঠিতে আটো রিক্সা চালক-পরিবহন শ্রমিকরাদের মধ্যে শুক্রবার বেলা ১২ টা থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষের জের দক্ষিনাঞ্চলের ১৪টি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঝালকাঠি জেলা বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।
অন্যদিকে দ্বন্ধ-সংঘর্ষের জের ধরে পরিবহন শ্রমিকরা শহরের বিশ্বরোড কলেজ মোড়, নতুন বাসষ্টান্ড ও সুতালরী সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৮টি অটোরিক্সা ও আটো রিক্সা চালকরা একটি বাস কাউন্টার ভাংচুর করেছে বলে জানা গেছে।
উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এখোন পর্যন্ত ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের পর ঝালকাঠি থানার ওসি শীলমনি চাকমার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ শহরের প্রধান বাসষ্টান্ডে ও বিভিন্ন অটোষ্টান্ডে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরপেক্ষ সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শহর সংলগ্ন পেট্রোল পাম্প মোরে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সুতালরী এলাকার আটো রিক্সা চালক জব্বার জেলা বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল কালম কে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে।
এঘটনা জের ধরে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খুজে খুজে আটো রিক্সা ভাংচুর করতে থাকলে ও আটো রিক্সা চালকরাও একটি বাস কাউন্টার ভাংচুর চলায়।
এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত ১৫ জন শ্রমিক ও যাত্রী আহত হয়েছে এবং নুরুল ইসলাম নামে এক অটোযাত্রীর কাছ থেকে নগদ ৪০হাজার টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জেলা বাস মালিক সমিতি দুপুর দেড় টা থেকে আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় এসব রুটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তীর শিকার হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জেলা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সহ সভাপতি নজরুল ও পরিবহন শ্রমিক নেতা বাহাদুর চৌধুরী জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে সরকার ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শহরের ভিতর থেকে এখোন মহাসড়কগুলোও দখল করে নেয়ায় অবৈধ আটো রিক্সা চালকদের বিচারের দাবিতে বাস ধর্মঘট শুরু করে।
দাবি পুরন না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসুচি অব্যাহত থাকবে বলে বাস মালিক সমিতি সূত্র জানিয়েছে।
এ অন্যদিকে আটো রিক্সা মালিক-চালক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন জানায় তাদের ভাংচুরকৃত অটোরিক্সা ও আহত ১২ জন আটো রিক্সা চালকের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরনের দাবী জানিয়েছে।
অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষনা করবে। এরিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত থানায় উভয় পক্ষের মামলা দায়েরের প্রস্তুতী চলছে।
এসএইচ





