বান্দরবানে সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) বিস্ফোরণে নিহত সেনা সদস্য তুজাম খানের (৩০) লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে নিহত সেনা সদস্য তুজাম হোসেনের লাশ রাজবাড়ীর পাংশায় আনা হয়। সেখান থেকে লাশ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের জাগির বাগলি গ্রামের নিজ বাড়িতে আনা হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

তুজাম খান রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের জাগির বাগলি গ্রামের মো. লুকমান মাস্টারের ছেলে।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্যে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর একটি টহল দল কেএনএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সদর দপ্তরসহ একটি গোপন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প দখল করে।

কেএনএফের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এলাকার আশে পাশে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে রুমা সেনা জোনের একটি টহল দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই ক্যাম্পের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

তবে ৯ টা ২০ মিনিটে সেনা টহল দলটি সন্ত্রাসীদের বিক্ষিপ্তভাবে পুঁতে রাখা ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। বিস্ফোরণে আহত এক সেনা সদস্যকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈনিক তুজাম মারা যান।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদে ক্রমাগত হত্যা, অপহরণ, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করে চলেছে। তাদের প্রতিহত করতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

এবিএস