রাজধানীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় জবাইয়ের পরই মহিষ হয় দেশী গরু। আর ছাগী- ভেড়া হয় খাঁসি। বাজারে মাংসের দোকানে ছাগী,ভেড়া ও মহিষের মাংস দেখা যায় না। অথচ প্রতিদিন শত শত মহিষ, ছাগী এবং ভেড়া জবাই হচ্ছে।

এদিকে এবার রমজানের আগেই রাজধানীতে মাংসের দাম বৃদ্ধি করেছে মাংস ব্যবসায়িরা। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে হঠাৎ করেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গরু,খাঁসির ও মুরগীর মাংসের দাম কেজি প্রতি ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি করেছে ব্যবসায়িরা।

আগামীকাল রোববার ২২ জুন বিকাল ৩টায় আরেক দফা মাংসের দাম বৃদ্ধির জন্য  ফুলবাড়িয়ায় নগর ভবনে ঢাকার দুই প্রশাসক এবং শীর্ষস্থানীয় কর্মকতাদের সঙ্গে মাংস ব্যবসায়িদের যৌর্থ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

১ রমজান থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে আরেক দফা মাংসের দাম বৃদ্ধির চেষ্টায় আছেন তারা।

বর্তমানে দেশী গরুর মাংস কেজি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা, খাঁসির মাংস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, নগরীতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সম্মত জবাই খানা ও জবাই স্লাভ নেই। রাজধানীতে মাত্র ৪টি জবাই খানা রয়েছে। এগুলো হলো, মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচা বাজারে, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী মাজারের পাশে, হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকায় এবং কাপ্তান বাজারে। এসব জবাইখানায় ভোরে থাকে না ভেটেরিনারী ডাক্তার এবং ভেটেরিনারী পরিদর্শক।

ফলে পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র জবাই হচ্ছে রোগা,গাভীন এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক  গরু, মহিষ, খাঁসি, ছাগী (বকরি) ও ভেড়া। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের নজরদারি নেই বললেই চলে। এছাড়া মাংসের গায়ে সিল মারার আইন থাকলেও অধিকাংশ দোকানেই বিক্রি হচ্ছে সিল বিহীন মাংস।

কিন্তু গত বছর ২৩ জুন,  ঢাকা সিটি করপোরেশনের যৌর্থ উদ্যোগে মাংস ব্যবসায়ীদের নিয়ে রমজান মাসের জন্য মাংসের দর নির্ধারণী সভায় শুধুমাত্র খাসির মাংস প্রতি কেজি ২৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। আর গরু,মহিষ ও ছাগল ভেড়ার মাংসের দাম  না বাড়িয়ে আগের দরই রাখা হয়। ফলে দেশী গরুর মাংস কেজি ২৭৫ টাকা,বিদেশী গরুর মাংস ২৬০ টাকা, মহিষের মাংস ২৫০ টাকা, খাঁসির মাংস ৪৫০ টাকা, বকরি- ভেড়ার মাংস ৩৯০ টাকা।

ঢাকা দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনছার আলী খান বলেন,   রমজান মাসে মাংসের দাম বাড়ানো উচিত না। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খৃষ্টানদের বড় দিন এবং হিন্দু ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কখনো জিনিস পত্রের দাম বাড়ে না। তবে মুসলমানদের রমজান মাসে জিনিসের দাম কেনো বাড়বে এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি।

ঢাকা,একে,২১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর