যমুনার পানি কিছু কমলেও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। যমুনায় পানি কমলেও সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, চৌহালী এবং শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

যমুনার প্রবল স্রোতে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের আজুগড়া-বেতিল স্পার বাঁধের ২শ’ ফুট এলাকাজুড়ে ধস নেমেছে। সোমবার ভোরে হঠাৎ ধস নামায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল বলেন, ‘২০০০ সালে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সলিড স্পারটি নির্মাণ হয়। কিন্তু বর্তমানে যমুনায় প্রবল স্রোতের কারণে স্কাওয়ারিং হচ্ছে। এতে যে কোনো স্থানে ভাঙন বা ধস হতে পারে এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই। তবে পাউবো ধস রোধে কাজ করছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিতদের খাবার পানির পাশাপাশি নানা ধরনের পানিবাহী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। বন্যায় জেলার শতাধিক স্কুলে পানি ওঠায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ আছে।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘যমুনার পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতায় নেমে এসেছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য জেলায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ত্রাণের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় প্রায় ৫০টি মেডিকেল টিম কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকা, ১ স্প্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই