নড়াইলের কালিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার বি এম নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও সেচ্ছাচারিতাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ অফিসের অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত করেছেন। এমনকি তার আচরণে শিক্ষকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কোন প্রতিকার মেলেনি।

জানা যায়, তিনি অনৈতিক ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন। ৯৮ জন শিক্ষকের টাইম-স্কেল পাশ করার নাম করে প্রত্যেকের নিকট থেকে ২ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ও ৩৮ টি বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণ বাবদ বরাদ্দকৃত টাকা থেকে বিদ্যালয় প্রতি ৪ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন।

উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাইট গার্ড কাম-পিয়ন নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পুল শিক্ষক নিয়োগের জন্য তিনি প্রত্যেক প্রার্থীর নিকট থেকে ৬-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিয়ে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দিচ্ছেন।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্ভূল কাগজপত্র প্রেরণের নিমিত্তে বিদ্যালয় প্রতি ৪০-৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিয়োগপ্রাপ্ত নৈশ প্রহরীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠানোর নামে ৫-১০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এমনকি ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার খাতার ওজন নিয়ম অনুযায়ী ৫৫ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে ওজন ছিল ৩৫ গ্রাম অর্থ্যাৎ খাতা প্রতি বরাদ্দকৃত ৬ টাকার স্থলে ২-৩ টাকা মূল্যের খাতা তৈরি করে আনুমানিক অর্ধ লাখ টাকা বাঁচিয়ে আত্মসাৎ করেছেন এই শিক্ষা অফিসার।

এছাড়া চলতি অর্থ বছরে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণেও তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাতা প্রদানে উৎকোচ না দিলে কোন কাজ হয় না। এমনকি উৎকোচ না দিলে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করে থাকেন। তাদের ন্যায্য কাজের জন্য দিনের পর দিন শিক্ষা অফিসে ধরণা দিচ্ছেন। যে কারণে শিক্ষকরা যথাসময়ে পাঠদানে হাজির হতে না পারায় শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখা ব্যাহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, ‘বদলি, টাইম স্কেল, ইনক্রিমেন্ট, অর্জিত ছুটি মঞ্জুর ইত্যাদি কাজে উৎকোচ ছাড়া তিনি কোন কাজই করেন না।’

সরকারি নীতিমালা মোতাবেক বছরের শুরুতে শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে এ কর্মকর্তা টার্গেট ভিত্তিক বড় ধরনের বাণিজ্য করেন। এ বাণিজ্যে তাদের চাহিদা পুরণ না করায় প্রাপ্য বদলি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষকরা। এভাবে তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বদলির সুপারিশ করে শিক্ষকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে বদলির ক্ষেত্রে উৎকোচ পেলে তিনি সরকারি নীতিমালারও কোন তোয়াক্কা করেন না।

অনেক শিক্ষকই শিক্ষা অফিসার সম্পর্কে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উদ্যোগ নিলেও নাজমুলের মত দূর্নীতি পরায়ণ শিক্ষা অফিসারের কারণে সরকারের ঈর্ষানীয় সাফল্য ভেস্তে যাচ্ছে। একই প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেছের আলী বলেন,‘অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান’।

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন হোসেন জানান,‘অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’ উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিএম নাজমুল ইসলামের মতামত জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কতিপয় শিক্ষক এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

জেডআই