নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাসেম খাঁর বিরুদ্ধে ভিজিডি’র চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
তালিকায় নাম রয়েছে কালিয়া উপজেলার জুশালা গ্রামের রোজিনা বেগমের। কিস্তু তাকে ভিজিডি কার্ড দেয়া হয়নি। গত তিন মাস ধরে তাঁর নামে বরাদ্দকৃত চাল কৌশলে উত্তোলন করা হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে তালিকাভুক্ত নারী রোজিনা বেগমের ইউপি সদস্যের কাছে গেলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
রোববার (১৪ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
জুশালা গ্রামের লিকু মোল্যার স্ত্রী রোজিনা বেগম এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রোজিনা বেগমের অভিযোগ, ভিজিডি কার্ড দেয়ার জন্য গত ডিসেম্বর মাসে বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পিকুল তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার আইডি) ও ছবি নেন। পরে চেয়ারম্যান তাঁর নামে একটি কার্ড করে দেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে জানয়ারি ও ফেব্রুয়রি মাসের চাল একসঙ্গে বিতরণের দিন ইউপি কার্যালয়ে যান রোজিনা বেগম। ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাসেম খাঁ তালিকায় নাম নেই বলে চাল না দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন।
রোজিনা বেগম পরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জাহিদা বেগমের মাধ্যমে জানতে পারেন, অন্য একজনকে দিয়ে ইউপি সদস্য কাসেম খাঁ তার নামে চাল তুলেছেন। এরপর আবার কাসেম খাঁর নিকট গেলে তিনি তার নামে কোন ভিজিডি কার্ড হয়নি বলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। এরপর তিনি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হন। চেয়ারম্যান তাকে নিশ্চিত করেন তার নামে কার্ড হয়েছে।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে সরেজমিনে দুস্থ ব্যক্তিদের বাছাই করে তালিকা করা হয়। ইউনিয়নে জনসংখ্যার ভিত্তিতে উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নে ১০৭ জন নারী ভিজিডির চাল পাচ্ছেন। তালিকায় ওই ভুক্তভোগী নারীর নাম রয়েছে।
ইউপি সদস্য আবুল কাসেম খাঁ মুঠোফোনে বলেন,‘ওই মহিলার নামে একটি ভিজিডি কার্ড হয়েছে। তবে কে তার নামের ভিজিডি কার্ডের চাল তুলছেন তা জানি না।’
একই বিষয়ে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা ডলি বলেন,‘ইউপি সদস্য কোন অনিয়ম করে থাকলে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম বলেন,ভিজিডি কার্ডের সংশ্লিষ্ট কমিটির সচিব হলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাই তাকে তদন্ত ভার দেয়া হয়েছে।
হুমায়ুন/এমবি





