চাঁদপুরের দক্ষিন মতলব উপজেলার ৩ শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তকাজে বাধা ও হাত পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকির বিষয়ে তদন্ত চলছে। গত এপ্রিল মাসে ঐ উপজেলার তিনজন শিক্ষা কর্মকর্তা নিম্ন মানের বই বিতরণ ও ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে বেসরকারী প্রাইমারী কিন্ডার গার্টেন স্ট্যান্ডার্ড এডুকেয়ারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করতে যান।
এসময় অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তদন্তকারী অফিসারদের সহযোগিতা করলেও স্ট্যান্ডার্ড এডুকেয়ার কর্তৃপক্ষ অসৌজন্যমুলক আচরণ করে বলে চাঁদপুরের বিভিন্ন প্রত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শুধু তাই নয়, তদন্ত কর্মকর্তাদের হাত পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকিও দেয় স্ট্যান্ডার্ড এডুকেয়ার।
এ ঘটনায় তিনজন এটিও’র সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার। তদন্দ কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের(ইউএনও)সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক শিকদার। নিন্মমানের বই বিক্রি ও অতিরিক্ত টাকা আদায় সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে আসা মতলব দক্ষিণ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মোখলেছুর রহমান, মো. তানভীর হাসান ও মো. হানিফ মিয়া গত ২১ এপ্রিল দুপুরে স্ট্যান্ডার্ড এডুকেয়ার একাডেমীর পরিচালকসহ অন্যান্য তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বে বাধা সৃষ্টি ও হুমকি প্রদর্শন করে।
পরে তদন্তকারী ওই কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জিয়াউল হক সিদ্দিকীকে অবহিত করেন এবং তার পরামর্শক্রমে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কানিজ ফাতেমাকেও জানানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা এ ঘটনার সত্যতা শিকার করেন।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মতলব দক্ষিণ উপজেলার বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের বিরুদ্ধে নিম্ন মানের বই বিক্রি ও অতিরিক্ত টাকা আদায় সংক্রান্ত একটি সংবাদ দৈনিক ইল্শেপাড়সহ চাঁদপুরের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়। খবরটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে যাওয়ার পরপরই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মতলব দক্ষিণ উপজেলা শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দেন। উপজেলা শিক্ষা অফিস পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের আলোকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, গত ২১ এপ্রিল সকালে মতলব কচি-কাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে প্রথমে তদন্তে যান। ওই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা তাদের তদন্ত কাজে সহযোগীতা করেন। তারপর ওই দিনই তদন্তে যান মতলব ক্যামব্রিয়ান স্কুলে। এ প্রতিষ্ঠানেও তদন্ত কাজে সহযোগীতা করে। দুপুরে স্ট্যান্ডার্ড এডুকেয়ার একাডেমীতে যাওয়ার পরপরই প্রতিষ্ঠান পরিচালক সাইদুল আরেফিন শ্যামলসহ অন্যান্যরা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে কৈফিয়ত চান ‘আপনারা এতো দেরি করে আসছেন কেন?’ এর পরপরই তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে তারা অশোভন আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে তাদেরকে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলাসহ নানা ধরণের হুমকি প্রদর্শন করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জিয়াউল হক শিকদার আরো জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করতে গেলে সহকারী শিক্ষা অফিসারদেরকে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেয় প্রতিষ্ঠান পরিচালকসহ অন্যান্যরা। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কানিজ ফাতেমা জানান, ঘটনাটি আমাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানিয়েছে। অফিসারদেরকে হুমকি দেয়া এটা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এআই





