আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে আর লোডশেডিং থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বাড়বে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে দেশবাসীকে সচেতন হতে হবে।'
তিনি বলেন, 'প্রতিদিন ১৪ কোটি মোবাইল এবং ৪ কোটি ল্যাপটপ চার্জ করা হয়। অকারণে জ্বালিয়ে রাখা হয় অসংখ্য বাল্ব। রান্নার কাজেও ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যুৎ। এতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিদ্যুতের যেমন চাহিদা বাড়ছে ঠিক তেমনি উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে।'
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, 'অফিস আদালত এমনকি বাসা বাড়িতেও অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত বাল্ব জ্বলতে দেখলে তা নিজের হাতে বন্ধ করুন। এতে অসম্মানের কিছু নেই।'
তিনি বলেন, 'চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে ৭ হাজার ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। নির্মাণ পরিকল্পনায় রয়েছে ৩ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াটের ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এছাড়া ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটা ২০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ও মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীতে আরও দুটি ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
সোলার এনার্জি থেকে বর্তমানে ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২০১৫ সালে সোলার থেকে উৎপাদন হবে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ভারত থেকে আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।'
সংসদ সদস্য সামশুল হকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস নির্মূল করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, গণমাণ্য ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের সক্ষমতা। সন্ত্রাস দমনে, দিনরাত সড়ক ও নৌপথে পুলিশ টহল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কঠোর হাতে সন্ত্রাসের মূলোৎপাটন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গপোসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর বাণিজ্যিক সংগঠন বিমসটেক এর সচিবালয় হবে ঢাকায়। এটাই হবে বাংলাদেশে আঞ্চলিক কোন উন্নয়ন সংস্থার প্রথম বা একমাত্র সচিবালয়। বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ঐক্যমত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে মনিটরিং সেল, গোয়েন্দা তৎপড়তা বৃদ্ধি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রাখা হয়েছে। বাজারে জিনিসপত্রের মূল্য তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতিরিক্ত মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে আইন করা হয়েছে।
ঢাকা, ২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ





