গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বৈশাখি মেলার নামে উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীগুলোতে অবাধে চলছে জমজমাট জুয়া আসর।

ফলে জুয়া খেলার অর্থ যোগাতে এলাকায় গরু চুরি, ছিচকে চুরি, ছিনতাই, জাল টাকা ও রুপার মুদ্রা দিয়ে প্রতারণা, পার্শ্ববর্তী এলাকায় রোড ডাকাতিসহ নানা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলা বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু তারপরও সেই উৎসবগুলোর জের ধরে বিভিন্ন নামে উপজেলার গ্রাম গঞ্জে মেলার নামে প্রতিদিন চলছে জমজমাট জুয়া খেলা।

পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে ওইসব মেলার নামে উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীগুলোতে চলেছে জমজমাট জুয়া খেলার আসর।

এছাড়া উপজেলার ফরিদপুরের মিরপুরহাট, ভাজাকালাই, রসুলপুরের তরফ কামালের পাকার মাথা, নলডাঙ্গার শ্রীরামপুর, প্রতাপ, জামালপুরের মাদ্রাসার পাঁচপীরের মাঠের বাজার, বনগ্রামের শালাইপুর চৌকিদারের মেলা ও ধাপেরহাটসহ একাধিক স্থানে পাল্টা পাল্টি করে এলাকার পেশাদার জুয়ারুদের আয়োজনে প্রায় প্রতিদিন চলছে জমজমাট জুয়ার খেলার আসর।

এ জুয়ার আসরগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় ও দুর-দরান্ত থেকে মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাস যোগে আসা জুয়ারুরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলায় মেতে উঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জুয়ারু জানান ওইসব জুয়ার স্পর্টে রাতভর ছয়গুটির ফরডাবু, নাইন কার্ড, ফ্লাস, ও কাটাকাটিসহ বেশ বিভিন্ন প্রকার জুয়া খেলা চলে।

এর ফলে উপজেলায় গরু ও ছিচকে চুরি, ছিনতাই, জাল টাকা ও রুপার মুদ্রা দিয়ে প্রতারণার ঘটনা, পার্শ্ববর্তী এলাকায় রোড ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, এ সব জুয়া খেলার কারণে গত এক সপ্তাহে উপজেলায় প্রায় ১০/১২ টি গরু চুরি হয়েছে। বাড়ী চুরি হয়েছে ৭/৮ টি। ছিচকে ছিনতাই ও জাল টাকা এবং রুপার মুদ্রা দিয়ে প্রতারণার ঘটনাতো প্রায় ঘটছে।

এলাকবাসী আরো জানান, এসব জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশকে কেউ অভিযোগ করলে পুলিশ মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অভিযানের আগেই জুয়ারুদেরকে খবর দেয়া হয়। ফলে পুলিশ জুয়ার স্পট থেকে চলে আসার পর পূনরায় শুরু হয় জুয়া খেলা।

সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম তাকে ম্যানেজ করার কথা অস্বীকার করে জানান, জুয়া খেলার সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, গরু ও ছিচকে চুরির কথা শুনেছেন। কিন্তু লিখিত কোন অভিযোগ না পাওয়ায় এ বিষয়গুলোতে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় নাই।

ইআর