সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন রাসেল আহাম্মেদ। এখন তিনি ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
২৫ অক্টোবর সাভারের ১ নম্বর কলমা এলাকার হটড্রেস লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অর্থাভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। রাসেল সাভার ইউনিয়নের কলমা এলাকার ইসমাইল মিয়ার ছোট ছেলে।
রাসেলের অভিযোগ, তার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ সাভার থানা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোহেল রানা। সোহেল রানার লোকজন ব্যবসায়িক আধিপত্যের জের ধরে তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তিনি দৌড়ে পালাতে গেলে যুবলীগ নেতা সোহেল তার নিজস্ব শটগান দিয়ে পায়ে গুলি করে। একপর্যায়ে রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সোহেল রানার সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে লাঠিপেটা করে এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬০৬ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ ঘণ্টা পর তার জ্ঞান ফেরে।
ওই ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই সাভার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সোহেলসহতিনজনকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু জামিনে বের হয়ে আসার পর সোহেল তার লোকজন নিয়ে রাসেলের ভাই আমিনুরকে বাসা থেকে জোর করে ধরে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। সাদা কাগজে পরে ‘কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ ছাড়াই গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা হওয়ার কথা’ উল্লেখ করা হয়।
রাসেল বলেন, ‘কয়েক মাস আগে হটড্রেস কারখানার ঝুট ব্যবসায় অংশীদার নেওয়ার কথা বলে আমিনুরের কাছ থেকে টাকা নেয় সোহেল রানা। কিন্তু ব্যবসার অংশ না দেওয়ায় অন্যান্য অংশীদার মিলে যুবলীগের আহবায়ক সেলিম মণ্ডলের নেতৃত্বে ২৫ অক্টোবর কারখানায় গেলে সোহেল রানা তাদের ওপর হামলা চালায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামলার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তিনি যদি বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করতেন তাহলে আমি কোনো রকম ব্যবসা করে চলতে পারতাম।’
কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সোহেল রানা ও সেলিম মণ্ডলের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় বর্তমানে কোনো পক্ষই তার খোঁজ নিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জানতে চাইলে রাসেলের মা বলেন, অর্থের অভাবে ছেলের বউয়ের গয়না বিক্রি করে চিকিৎসা খরচ চালাচ্ছি। সেলিম মণ্ডলের পরামর্শে ছেলেকে এনামে ভর্তি করা হলেও এখন তারা আর খবর নেয় না। প্রতিদিন ছয় হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এরপর হাসপাতালের ভাড়া ও খাওয়া খরচ তো আছেই। তিনি ছেলের ওপর নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা বলেন, রাসেল ও তার ভাই আমিনুর লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল। এরপর বিষয়টি গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা করা হয়। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু বলার নেই।
জেআই





