নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল আদালতের প্রবেশপথে দুটি ব্যানার টানিয়েছেন। তা ছাড়া, এক মাস ধরে মামলার শুনানির দিনে নূর হোসেনের স্বজন ও তাঁদের ক্যাডারদের মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে। এতে শঙ্কিত মামলার বাদীপক্ষ ও তাঁর আইনজীবী।
সাত খুনের দুটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সর্বশেষ সাক্ষী ও দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে আজ সোমবার জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। সেই জেরার আগেই নূর হোসেনের ভাতিজা এই ব্যানার টানিয়েছেন।
গতকাল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের দুটি পথেই নূর হোসেনের ভাতিজা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাহজালালের নামে দুটি বড় ব্যানার টানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সার্কিট হাউস ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ঢুকতে হয় এই দুটি পথ দিয়ে। ব্যানার দুটিতে শাহজালালের ছবির সঙ্গে সাংসদ শামীম ওসমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নূর হোসেনের আইনজীবী খোকন সাহা, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিঞার ছবি রয়েছে। ব্যানারে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শাহজালাল।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, শাহজালাল জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। সাত খুনের পর এক বছর তিনি পলাতক ছিলেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কাউন্সিলর পদ থেকে তাঁকে বরখাস্ত করেছিল। পরবর্তী সময় আদালতের মাধ্যমে তিনি আবার কাউন্সিলর পদ ফিরে পান। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
সাত খুনের দুই মামলার একটির বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি অভিযোগ করেন, নূর হোসেনের প্রভাব আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে। তাঁর ভাতিজা শাহজালালের ব্যানারই তাঁর বড় প্রমাণ। তা ছাড়া, কয়েক মাস ধরে নূর হোসেনকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় না করিয়ে এজলাসের সামনের চেয়ারে বসিয়ে রেখে শুনানি করা হচ্ছে।
সেলিনা আরও অভিযোগ করেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নূর হোসেন তাঁর দুই ভাই নুর সালাম ও নুরুদ্দীন এবং ভাতিজা শাহজালালের মাধ্যমে আদালতপাড়ায় নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। মামলার শুনানির দিন আদালতপাড়ায় যেসব ক্যাডার দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগই চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, কয়েক মাস ধরে প্রধান আসামি নূর হোসেনকে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয় না। অসুস্থতার ভান করে তিনি এজলাসে ফ্যানের নিচে বসে থাকেন। অথচ মামলার অন্যান্য আসামি, যাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর তিনজন সাবেক কর্মকর্তা আছেন, তাঁরা সবাই কাঠগড়ায় দাঁড়ান।
সাখাওয়াত হোসেন খান আরও বলেন, নূর হোসেনের দুই ভাই ওভাতিজার নেতৃত্বে ক্যাডাররা আদালতপাড়ায় অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। বর্তমানে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের সর্বশেষ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জেরা শুরুর প্রক্রিয়ায় আছে। এই সময়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রধান আসামির পক্ষে তাঁর স্বজন ও ক্যাডারদের প্রভাব বিস্তারের ঘটনা বাদীপক্ষ ও আইনজীবীর জন্য হুমকিস্বরূপ।
এম এ





