লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় রাতের আঁধারে পুরো ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট করে তিন বর্গা চাষির জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে এক ভুমি দস্যুর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার(৫ এপ্রিল) বিকেলে আদিতমারী থানায় ক্ষতিপূরণসহ বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চাষি রফিকুল ইসলাম।

চাষিদের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চওড়াটারী গ্রামের মৃত তাজ্জদ হোসেন তাহেরের ছেলে রফিকুল ইসলামের ৫ বিঘা জমি দীর্ঘ দিন ধরে বর্গাচাষি হিসেবে চাষাবাদ করে আসছেন ভুমিহীন তিন বর্গাচাষি। এই জমির চাষাবাদে চলে তিন চাষির সংসার।

নিজেদের স্বাবলম্বী করতে ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেন ভূমিহীন বর্গাচাষি শাহজামাল, শামছুদ্দিন ও আজাদুল হক। কয়েক মৌসুমে ভুট্টার ফলন ভাল হচ্ছিল। তাই এবারও ভুট্টা চাষ শুর করেন তারা। আর মনে মনে বাঁধতে থাকেন অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি দিয়ে দিলো স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যুরা্

বৃহস্পতিবার(৪ এপ্রিল) দিনগত মধ্য রাতে সেই ভুট্টা ক্ষেতে দলবল নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে জমি জবর দখলের চেষ্টা করে ওই গ্রামের ভুমি দস্যু খ্যাত আবুল বাশার কসাই।

শুক্রবার সকালে চাষিরা ক্ষেত গিয়ে দেখেন পরো ভুট্টা ক্ষেতে হাল চাষ করে সকল ভুট্টার চারা গাছ উপড়ে ফেলেছে ভূমি দস্যুরা।
পুরো ক্ষেত নষ্ট করে তাতে কয়েকটি কলাগাছ লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। ভুট্টা ক্ষেত নষ্টের কারণ জানতে চাইলে ভূমি দস্যু আবুল বাশার কসাই চাষিদের উপর উল্টো হামলার চেষ্টা করে।

অবশেষে ক্ষতিগ্রস্থ বর্গাচাষিরা বিষয়টি আদিতমারী থানা পুলিশকে মোবাইলে অবগত করে বিচার দাবি করেন। এ ঘটনায় জমির মুল মালিক রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে ভুমি দস্যু আবুল বাশার কসাইসহ ১২ জনের নামসহ অজ্ঞতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ক্ষতিগ্রস্থ বর্গাচাষি শাহজামাল জানান, জমি বর্গা চাষ করে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার পরিচালনা করেন তিনি। গত বছর এ জমির ভুট্টা থেকে প্রায় অর্ধলাখ টাকা আয় করেন। এ বছরও অনেক আশায় ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন। সেই ক্ষেতের ভুট্টা রাতের আঁধারে চাষ করে নষ্ট করেছে ভুমি দস্যু আবুল বাশার কসাই। তিনি ন্যায় বিচার দাবি করেন।

অপর চাষি শামছুদ্দিন বলেন, রফিকুলের এসব জমি দীর্ঘ দিন ধরে বর্গাচাষি হিসেবে চাষবাস করে সংসার চালাচ্ছি। কষ্টে উৎপাদিত ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট করায় এবার না খেয়ে মরা ছাড়া কোন উপায় নেই। যত মরণ গরিবের। আমাদের কান্না কেউ দেখে না।

জমির মালিক বাদি রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরও জমিগুলো জবর দখলের হুমকি দিয়েছিল আবুল বাশার কসাই। পুলিশ তদন্তে গেলে ভূমি দস্যুরা পালিয়ে যায়। বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদেরকে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে বলেন পুলিশ। যার প্রেক্ষিতে চাষাবাদ করছি। সেই জমিতে বাশার কসাই লোকজন নিয়ে রাতের আঁধারে হালচাষ করে ক্ষেতের ক্ষতি করেছে।

বাড়িতে গিয়েও অভিযুক্ত আবুল বাশার কসাইকে পাওয়া যায়নি। তার বাড়ির লোকজনও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাসুদ রানা জানান, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকার/জেড


জেড