রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি বৃদ্ধি করার ৩টি পৃথক বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
দশম সংসদের দশম অধিবেশনে বুধবার রাতে পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট বিল তিনটি পাস হয়। এর আগে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেম্যুনারেশন এন্ড প্রিভিলেজেস) (এমেন্ডমেন্ট) বিল ২০১৬, দ্য প্রাইমমিনিস্টারস (রেম্যুনারেশন এন্ড প্রিভিলেজেস) (এমেন্ডমেন্ট) বিল ২০১৬, শীর্ষক বিল দু’টি পাস করার প্রস্তাব করেন সংসদ কার্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।
‘স্পিকার এন্ড ডেপুটি স্পিকার (রেমুনারেশন এন্ড প্রিভিলেজ) বিল ২০১৬’পাসের জন্য প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বিলটি আইনে পরিণত হলে রাষ্ট্রপতি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনসহ অন্যান্য আনুতোষিক ভাতা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী পাবেন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতনসহ অন্যান্য আনুতোষিক ভাতা। স্পিকার পাবেন ১ লাখ ১২ হাজার টাকা বেতনসহ অন্যান্য আনুতোষিক ভাতা এবং ডেপুটি স্পিকার পাবেন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা বেতনসহ অন্যান্য আনুতোষিক ভাতা। এই বেতন ২০১৫ সালের জুলাই থেকে এবং ভাতা চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এ সময় মতিয়া চৌধুরী সংসদকে জানান, বিলটি ২০১৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হবে। গত ২৫ জানুয়ারি এ বিল দুটি সংসদে উত্থাপিত হয়।
বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয় ২৪ জানুয়ারি। পরে বিলের ওপর আনীত সংশোধনী, জনমত জরিপ ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত পৃথক পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় এবং দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা সামঞ্জস্য রক্ষা করে পুনঃনির্ধারণের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনের অধিকতর সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিল উপস্থাপন করা হয়।
আইনের এক ধারার ২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ২ (অর্থাৎ বেতন) ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং আইনের ধারা ৩ (অর্থাৎ ভাতাদি) ১ জুলাই ২০১৬ তারিখ থেকে কার্যকর করা হবে। গত বছরের ১৯ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বেতন ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বেতন বাড়ানো হয়েছিল।
কার ভাতা কত বাড়ল
রাষ্ট্রপতি : সংশোধিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বেতন ৬১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি বিমানে ভ্রমণ করলে তার বীমার জন্য আগের ১৫ লাখ টাকার পরিবর্তে আইন সংশোধনের পর ২৭ লাখ টাকা হারে তা পাবেন। তবে রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন তহবিলে আগের মতই দুই কোটি টাকা থাকবে। বিষয়টি উত্থাপিত বিলে উল্লেখ থাকলেও পাসকৃত বিলে সংশ্লিষ্ট ধারার উল্লেখ ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী : সংশোধিত আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বেতন ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সুবিধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি বাড়িতে থাকলে প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ পাবেন এক লাখ টাকা, যা আগে ছিল ৫০ হাজার টাকা। নতুন আইনে প্রধানমন্ত্রী বিমানভ্রমণের বীমা সুবিধা ২৫ লাখ টাকা আগে বিমা সুবিধা ছিল সীমা ১৪ লাখ টাকার। এছাড়া বিলে প্রধানমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিলের আকার ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে গেলে প্রধানমন্ত্রীর দৈনিক ভাতাও ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।
স্পিকার : সংশোধিত আইন অনুযায়ী স্পিকারের মাসিক বেতন ৫৭ হাজার ২০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। স্পিকারের স্বেচ্ছাসেবী তহবিল ১০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১১ লাখ টাকা এবং বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ১০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৬ লাখ টাকা, মাসিক ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৮ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ১৩ হাজার টাকা, দৈনিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে তিন হাজার টাকা করার করার করা হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার : ডেপুটি স্পিকারের মাসিক বেতন ৫৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী তহবিল ৮ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ লাখ টাকা এবং বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ লাখ টাকা, মাসিক ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার টাকা, দৈনিক ভাতা ৭৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে দুই হাজার টাকা করার করা হয়েছে।
এমই





