চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে ভাড়াটে লোক দিয়ে চলছে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। দীর্ঘদিন ধরে এই অফিসে কোনও লোক নিয়োগ না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ভাড়াটে লোক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার।
অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও সেখানে বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ১১ জন। অর্গানোগ্রামে ৫ জন উপ-সহকারী পরিচালকের পদ থাকলেও বর্তমানে এইসব পদের সব কয়টি আসন শূন্য রয়েছে। এছাড়া জনশক্তি জরিপ অফিসারের সাতটি পদের ১টি, লাইব্রেরিয়ানের পদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের তিনটি পদে ১টি, উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক ১টি, অফিস সহকারী কাম কোষাধ্যক্ষের ১টি, স্টেনো টাইপিস্টের ১টি ও দারোয়ানের ১টি পদ শূণ্য রয়েছে।
এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়েছি। সড়ক ও জনপদসহ সরকারের অন্যান্য যেসব অফিস জেলা পর্যায়ে রয়েছে সেগুলোকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই এই শূণ্যতা তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন,‘দীর্ঘ দিন নিয়োগ বন্ধ থাকলেও আমরা আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে কয়েক জনকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছি। তাদের মাধ্যমে আপাতত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে খুব শিগগির স্থায়ী কর্মকতা-কর্মচারী নিয়োগ না দিলে সামনে কাজ চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে।’
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্র জানায়, বর্তমানে ওই অফিসে স্থায়ী ১১জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি আরও ৯ জন স্টাফ কাজ করছেন। যাদের সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে চুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নয় জনের মধ্যে চার জনকে ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর হিসেবে, তিন জনকে কল্যাণ সহকারী হিসেবে এবং দুই জনকে কম্পিউটার অপারেটর (কল্যাণ) পদে চুক্তিতে নিয়োজিত দেওয়া হয়।
জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় চট্টগ্রামের মানুষ বিদেশে বেশি যান। বর্তমানে এই জেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। এর বাইরে প্রতিনিয়ত আরও অনেক লোক বিদেশ যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় বিশাল এই জনগোষ্ঠিকে সেবা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘অভিবাসন একটি জটিল প্রক্রিয়া। এখানে কাজ করার জন্য একজন কর্মীর নানা বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হয়। স্থায়ী অফিসিয়াল স্টাফ না থাকায় আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারছি না। এ কারণে কাজও একটু ধীর গতি হচ্ছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।
এসএম





