টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ ও গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে ‘তৃতীয় কোনো বিষয়’ রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. মোখলেসুর রহমান।
রোববার পুলিশ সদর দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতীর ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘অনভিপ্রেত’ বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ছেলের সামনে মাকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার বিকালে কালিহাতী উপজেলা সদরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। গুলিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় তিন উপ-পরিদর্শকসহ সাত পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে প্রায় ৯০০ জনকে আসামি করে দুটি মামলাও হয়েছে।
মোখলেসুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর (ধর্ষণের) মামলা হয়েছে, পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। কিন্তু একদিন পর মহাসড়ক বন্ধ করা, আমি মনে করি এখানে তৃতীয় কোনো বিষয় জড়িত আছে।”
‘তৃতীয় বিষয়’টি ‘রাজনৈতিক’ কীনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “একটি ঘটনা ঘটেছে, মামলা হয়েছে, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে। সবকিছু ঠিকমত যখন এগোচ্ছে, তখন মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে কেন, সেটা বুঝতে হবে।”
ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে আসামি করা হলেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। এক নম্বর আসামির বাড়িতে কালিহাতী থানার ওসি ভাড়া থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোখলেসুর রহমান বলেন, “যদি ওসি এক নম্বর আসামিকে খাতির করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসএইচ





