কুষ্টিয়ায় দুই দিন ব্যাপী নৌকাবাইচকে ঘিরে উৎসবের আমেজ গড়াই পাড়ে। নাগরিক জীবনের বাস্তবতাকে ভুলে শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রথম দিনে নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেছিলেন হাজারো নারী-পুরুষ-শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।

প্রতিযোগিতার ১ম দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১৬টি দল অগ্রদূত, শাপলা, শেরেবাংলা, লালনশাহ, সুন্দরবন নামের বাইচের নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন মাঝি মাল্লারা।

বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগীরা ছোটান নিজ নিজ নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢোল কাঁসার সঙ্গে মাঝিদের হৈ হৈয়া শব্দে প্রকম্পিত হয় গোটা এলাকা। শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধা, উৎসব থেকে বাদ যায়নি কেউ-ই। নেচে গেয়ে তারা সবাই উৎসাহিত করেন নিজ নিজ দলকে। জানান তাদের উচ্ছ্বাসের কথা।

kustiya_1বাংলার আবহমান কালের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বৈচিত্র্যর সঙ্গে অঙ্গা-অঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে গড়াই নদী। আর প্রাচীনকাল থেকেই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা এখানকার সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০০৮ সালের পর আবারো এ ধরনের আয়োজনে খুশী এলাকাবাসী।

হরিপুরের বাসিন্দা নুর মোর্শেদা বলেন, কুষ্টিয়ায় দু’দিন ব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ঘিরে গড়াই নদীর দু'পাড়ে প্রায় ৪ কি.মি. দুরত্ব পর্যন্ত লক্ষ প্রাণের উৎসব গড়ে উঠেছে। একঘেয়ে নাগরিক জীবনের বাস্তবতা পেছনে ফেলে ক্ষণিকের চিত্তবিনোদনের স্বাদ নিতে সকল বয়সের নারী-পুরুষ-শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা এসেছিলো নৌকা বাইচ দেখতে।

হরিপুর ব্রিজ থেকে কয়া বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার পাল্লার এ নৌকাবাইচের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক।

কয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন- কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হান, পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমসহ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। শনিবারও দিনভর প্রতিযোগিতা শেষে উৎসবের সমাপনী ও পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও কয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক স্বপন বলেন, নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আবহমানকাল ধরে বাঙালির হৃদয়ে লালিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ প্রতিযোগিতার পরিচিতি ঘটানোসহ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরায় মুল লক্ষ্য।

এম এ