বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে দিন দিন বাড়ছে বংশগত রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশে ৭০ হাজারের বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে। প্রতিবছর নতুন করে ৬ থেকে ৮ হাজার শিশু এই রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবদেহে রক্ত তৈরির জন্য দুটি জিন কাজ করে। একটি জিনে ত্রুটি থাকলে ব্যক্তি থ্যালাসেমিয়া বাহক হন এবং দুটি জিনেই ত্রুটি থাকলে তিনি থ্যালাসেমিয়া রোগীতে পরিণত হন। সাধারণত শিশু জন্মের এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই রোগটি শনাক্ত হয়।
রোগটির প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘনঘন সংক্রমণ, ওজন না বাড়া, জন্ডিস এবং খিটখিটে মেজাজ।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন-এর তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত রোগী ছিল ২ হাজার ৭২৫ জন। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৪৬ জনে।
সংস্থাটি জানায়, দেশে প্রতি বছর থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩৬ হাজার ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়। তবে চাহিদার তুলনায় মাত্র ১৮ শতাংশ রক্ত সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। একজন রোগীর চিকিৎসায় মাসে গড়ে অন্তত ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, যা মোট জনসংখ্যার ১১.৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বাহক রয়েছে Rangpur অঞ্চলে, যেখানে হার ২৭.৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একজন বাহক আরেকজন বাহককে বিয়ে করলে সন্তান আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে পরীক্ষা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে স্ক্রিনিং বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
আশরাফুল হক বলেন, দেশে এখনো থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরকারি পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সুবিধা চালু হয়নি। এছাড়া ডে-কেয়ার ভিত্তিক ট্রান্সফিউশন সেবার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত পড়াশোনা থেকেও ঝরে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার ট্রান্সফিউশন সেবা চালু করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, বিয়ের আগে পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। একইসঙ্গে রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি ভর্তুকি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন মালিবাগ কার্যালয়ে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, ব্লাড ব্যাংক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে।
এনএইচ