রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে ভাসমান হকাররা। তাদের দাবি, গত চার মাস ধরে তারা ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারছে না। তাদের ফুটপাতে ব্যবসা করতে দিতে হবে।
তাদের এই বিক্ষোভের ফলে আজ (০৭ মে) মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে রোজার প্রথম দিনই অফিস শেষে করে বাড়ি ফেরার পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
পুলিশ জানায়, হকাররা দুপুরের আগে আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা গোলাপ শাহ মাজারের সামনে নর্থ সাউথ রোড বন্ধ করে দেয়।
দুপুর ১টার দিকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনের সড়কও তারা অবরোধ করে। এতে পল্টন থেকে ফুলবাড়িয়া হয়ে সদরঘাট, গুলিস্তান থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জিরো পয়েন্ট থেকে সচিবালয়মুখী আব্দুল গণি রোডের মুখে ওয়াসার পয়নিষ্কাশনের বড় বড় পাইপ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেখা যায়।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (পেট্রোল) আবুল বাশার বলেন, “গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের চারিদিক দিয়ে রাস্তা বন্ধ রেখেছে হকারা। গোলাপ শাহ মাজারের কোনো পাশ দিয়েই কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।”
রুবেল নামের এক হকার সাংবাদিকদের বলেন, “গত চাইর মাস ধরে আমরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারতাসি না। আমরা বেকার হইয়া গেছি। মেয়র বলেছিল বসতে দিব কি না সেই ডিসিশন আজকে দিব। কিন্তু মেয়রের (সাঈদ খোকন) অফিসে গিয়া আমরা তারে পাই না। পরে আমরা রাস্তায় নামছি।”
আরেকজন হকার বলেন, “আমরা ফুটপাতে বসতে চাই, এখানেই ব্যবসা করতে চাই। ফুটপাত থেকে তারাই মালামাল কেনে যারা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করে। যারা বলছে, আমরা ফুটপাতে বসলে চলাচল করা যায় না, তারা মিথ্যা বলে। তারা উচু তলার মানুষ। ফুটপাত থেকে আমাদের উঠায়া দিলে তারা গাড়ি রাখতে পারবে।”
এই অবস্থার মধ্যে বিকেল সাড়ে ৩টায় অফিস ছুটি হলে ঘরমুখো মানুষ পড়ে চরম বিড়ম্বনায়। উপায়ান্তর না দেখে পায়ে হেঁটেই রওনা হতে হয় তাদের।
এমবি





