নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণকারী হিসাবে জড়িত বলে অভিযোগ এনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ।
তারা বলেন, নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ হয় না। গণতন্ত্র, মানবতা ও সভ্যতার স্বার্থে, উন্নত রুচিবোধ ও সংস্কৃতি চেতনার আলোকে নারী-পুরুষের সৌন্দর্যমণ্ডিত মিলিত জীবন ও যৌথ কর্মপ্রয়াসের বিকল্প নেই।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংগঠনের উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশোর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য নূরজাহান ঝর্ণা, নারীনেত্রী প্রীতিলতা,জেসমিন আক্তার, রুখসানা আফরোজ আশা।
সংহতি বক্তব্য রাখেন বাসদ ঢাকা নগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী ও ছাত্র ফ্রন্ট এর সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ৩০ ডিসেম্বর এক প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালীর সূবর্ণচরে নির্বাচনের দিন ভোট দিতে যেয়ে ৪ সন্তানের এক জননীকে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলে। সেই নারী এর প্রতিবাদ করায় তাকে হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
সেইদিন রাতেই তার স্বামীকে বেধে রেখে গৃহবধুকে গণধর্ষণ করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ধর্ষিতা নারী এখন হাসপাতালে আছেন। তার স্বামী মামলা করেছেন কিন্তু এজহারে গণধর্ষণের নির্দেশদাতাকে অন্তর্ভূক্ত করেনি পুলিশ।
পরবর্তীতে আন্দোলনের চাপে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সমাবেশ থেকে বক্তাগণ অবিলম্বে গণধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতির স্বার্থে, সুস্থ নিরাপদ জীবন যাপন ও পরবর্তী প্রজন্মের মনুষ্যত্ব নিয়ে বেড়ে উঠার স্বার্থে আজ নারী-পুরুষের মধ্যকার অসাম্য-বৈষম্য বিলোপ সময়ের দাবি।
সেই দাবি পূরণের লক্ষ্যে সকল প্রকার অসুস্থ মানসিকতা, প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা, ভোগবাদী প্রবণতা দূর করার জন্য একটি শক্তিশালী নারী সংগঠন, নারী মুক্তি আন্দোলন ও নারী-পুরুষের মিলিত সংগ্রাম অপরিহার্য।
শুধু অধিকারের কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সমাজ সচেতনতা বিকাশ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সংগ্রামের পথেই সত্যিকার মর্যাদা ও অধিকার আদায় সম্ভব। সমাজের আমূল পরিবর্তনের বিপ্লবী লড়াইয়ের পথে সার্বিক মুক্তি একদিন অর্জিত হবে।
এএস





