পাবনা সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে মুরাদের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির শাস্তির দাবীতে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার ওই শিক্ষকের অপসাররণ দাবী করে বিক্ষোভ মিছিল, ভাংচুর, ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে আন্দোলনকারীরা।
নানা অভিযোগে দ্রুত সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজ থেকে অন্যত্র বদলী হওয়ার জন্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ খন্দকার সিরাজুল ইসলাম মুরাদকে বলার পরও রোববার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা মাত্র বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া দিলে দৌড়ে অন্যত্র পালিয়ে আত্মরক্ষা করে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের এ শিক্ষক।
মুর্হুতের মধ্যেই নানা অপকর্মের হোতা ও নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত এ শিক্ষকের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ শুরুকরে শিক্ষার্থীরা। এরই এক পর্যায়ে দুপুর ১২ টায় পাবনা সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির মজুমদারকে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ভাংচুর শুরু করে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে একত্রতা প্রকাশ করে এই আন্দোলনের একাত্মতা ঘোষনা করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার নেতৃত্বে অন্যান্য নেতাকর্মিরাও আন্দোলনে অংশ নেন। এদিকে খবর পেয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মিদের নিয়ে দুপুর সোয়া ১ টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানান।
সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির মজুমদার অবরুদ্ধ অবস্থায় মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার সিরাজুল ইসলাম মুরাদের নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা স্বো”ছার হয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে।
পরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা আমার অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে আমাকে প্রায় ২ ঘন্টা অবর“দ্ধ করে রাখে। দুপুর দেড়টায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্র“ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিলে ছাত্রলীগের জেলা নেতৃবৃন্দের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
কলেজ ও বিশ্বস্থ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক খন্দকার সিরাজুল ইসলাম মুরাদ বারবার নানা ধরণের অপর্কম, অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটানোর পরও অদৃশ্য শক্তির বলে এ কলেজ থেকে বদলী করার পরও সে পূনরায় এই কলেজেই চলে আসেন এবং বহাল তবিয়তে নানা অপর্কম চালিয়ে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সে ওই দলের ক্ষমতাধরদের সাথে হাত মিলিয়ে অপকর্মের গড ফাদারে পরিনত হন। পরীক্ষা হলে পরীক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে নকলের অবাদ সুযোগ করে দেওয়া.জাল সার্টিফিকেট তৈরী করা, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরি দেয়া, ক্ষমতা ও পেশী শক্তি প্রয়োগ করে চাহিদামাফিক কাজ বাগিয়ে নেয়া, প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে ছাত্রীদের সাথে নানা আপত্তিকর ছবি উঠা, অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোসহ নানা অপকর্মের সাথে তিনি যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, ৩/৪ দিন আগে তার এক ছাত্রীর সাথে শহরের একটি হোটেলে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার পড় গণধোলাইয়ের শিকার হন। এছাড়াও তিনি প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর পাইয়ে দেয়া, ফাইনাল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় নকল সরবরাহ করা, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মোটা অংকের বিনিময়ে বিক্রি করাসহ একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন।
ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম দুপুর দেড়টায় বলেন, অধ্যক্ষ স্যারকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে রোববারের মধ্যেনানা অপর্কম ও নারী কেলেঙ্কারির হোতা খন্দকার সিরাজুল ইসলাম মুরাদকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. একেএম শওকত আলী জানান, গত ২৭ নভেম্বর ষ্টাফ কাউন্সিলে শিক্ষক খন্দকার সিরাজুল ইসলাম মুরাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জর“রী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত ভিডিও ক্লিপের আলোকে কলেজের সকল শিক্ষকদের মতামতের প্রেক্ষিতে ওই দিন থেকে ৭ দিনের মধ্যে অন্য কলেজের বদলী নেবেন বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে শিক্ষক মুরাদ এই কলেজ থেকে বদলী না নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
রাকিবুল/এআই





