কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের বেশ কয়েকটি পদে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে গতকাল সোমবার। সাধারণত এ ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার কথা কুড়িগ্রাম জেলা কিংবা ফুলবাড়ীর কোনো প্রতিষ্ঠানে।

অথচ সেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনে। কুড়িগ্রাম-২ (সদর, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম সংসদ ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে গোপনে এই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। 

তবে এ জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কারো অনুমতি নেননি তিনি। গতকাল দুপুর দেড়টায় সংসদ ভবনের এলডি হল ভবনে পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সামনে পরীক্ষার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাতে অংশ নেন ৪০ জন পরীক্ষার্থী।

জাতীয় সংসদ ভবনে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না—তা জানতে চাইলে গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে আমার জানা নেই। আমার কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতিও নেয়নি। এটা তিনি (এমপি তাজুল ইসলাম) কিভাবে করেছেন সেটা আমি বলতে পারছি না। ’ এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্পিকার।

তাজুল ইসলাম সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা কমিটিরও সভাপতি। যদিও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে স্থানীয় এমপির সরাসরি সভাপতি হওয়ার বিধান বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত সম্প্রতি রায় দিয়েছেন।

গতকাল শিক্ষকদের ছয় পদের পাশাপাশি গ্রন্থাগারিকের একটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় এমপি তাজুল ইসলামকে সহযোগিতা করেছেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত হোসেন ও তাঁর স্ত্রী একই কলেজের শরীরচর্চা বিভাগের শিক্ষক খন্দকার রেহেনা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিও ছিলেন।

পরীক্ষা শেষে তাজুল ইসলামের উদ্যোগে সেখানে পরীক্ষার্থীদের ভূরিভোজও করানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোন কোন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা আগেই ঠিক করা হয়েছে। এ জন্য একেকটি পদের জন্য প্রার্থীপ্রতি আট থেকে ১৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এরপর লোক দেখানো এ নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

মনোনীত পরীক্ষার্থীদের নিয়োগ নির্বিঘ্ন করতে একেক প্রার্থীর বিপরীতে তিন থেকে চারজন করে ডামি প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এমন বেশ কয়েকজন প্রার্থী বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ দুজন গত ২০ আগস্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

গত ২২ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে জারি করা এনটিআরসিএ আইন সংশোধনের গেজেটে সরকার কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আদলে ‘বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন’ গঠনের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সংশোধিত আইন অনুসারে প্রবেশ পদ বা স্কুলে সহকারী শিক্ষক আর কলেজ পর্যায়ে প্রভাষক নিয়োগ হবে এনটিআরসিএর তৈরি করা মেধাতালিকা অনুসারে। 

এই প্রক্রিয়ায় এখন নিয়োগ হচ্ছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক এক পরিপত্রে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২১ অক্টোবর ২০১৫ তারিখের আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তাদের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখের মধ্যে সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগেই গতকাল ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ কলেজের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়ছিল গত বছরের ২১ জুলাই। 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে সংসদ সদস্যদের মনোনয়নের ওপর দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তা সত্ত্বেও ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি পদে এমপি তাজুল ইসলামের বহাল থাকা প্রসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফয়জুল করিম বলেন, ‘আমাদের জানা মতে আদালত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে রায় দিয়েছেন। ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজে সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান নেই। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে উপাচার্যই সভাপতি মনোনয়ন দেন। সে অনুসারেই চলছে। আদালতের নতুন কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। জানা যায়, ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ১২টি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে সাতটি পদে। এর মধ্যে শিক্ষকদের ছয়টি পদের বিপরীতে ১৩ জনকে এবং গ্রন্থাগারিকের একটি পদে একজনকে নেওয়া হবে। 

আবেদনকারীদের কাছে প্রবেশপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রেও কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রবেশপত্র ইস্যুর তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬, আর সেই প্রবেশপত্র বিলি করা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে। নিয়োগ পরীক্ষার ঠিক এক দিন আগে এভাবে তাড়াহুড়ো করে প্রবেশপত্র পেয়ে অনেক পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে গতকাল মোবাইল ফোনে জানান, একেকটি পদের জন্য আট থেকে ১৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তারপর এই নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম ও কলেজ অধ্যক্ষ মনোনীত পরীক্ষার্থী, যাঁরা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাঁদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করতে একেক প্রার্থীর বিপরীতে তিন থেকে চারজন করে ডামি প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডামি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, একটি পদের বিপরীতে একজন পরীক্ষা দিয়ে পাস করলে তো আর নিয়োগ দেওয়া যায় না। বিধি অনুযায়ী নিয়োগ দিতে এক পদে ন্যূনতম তিনজনের পরীক্ষা দিতে হয়। 

যেহেতু পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অধ্যক্ষ মিলে মনোনীত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন, তাই তাঁদের নির্বিঘ্নে পাস করাতেই শুধু কাগজে-কলমে পরীক্ষার্থী দেখাতে ডামি প্রার্থীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।   

এসব বিষয়ে এমপি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার কার্যালয়ে পরীক্ষা নিয়েছি, এটার জন্য কোনো অনুমোদনের দরকার হয়নি। আর বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে নয়, এমপি হিসেবে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে পরীক্ষা নিয়েছি। ’

প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারো কাছ থেকে এক টাকাও ঘুষ নেওয়া হয়নি, সম্পূর্ণ ফেয়ারভাবেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ’ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে জানালে তিনি বলেন, ‘সেই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ’ ৪০ জন প্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ডামি প্রার্থী কে অংশ নিয়েছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়, যারা আসছে তারা সবাই পরীক্ষা দিয়েছে। ’

২০১৫ সালের ২১ জুলাই ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিক ও ১১টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। একটি জাতীয় দৈনিকে সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গ্রন্থাগারিক ছাড়াও ভূগোল, মার্কেটিং, ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, উদ্ভিদবিদ্যা, ইংরেজি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।  

অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রন্থাগারিক পদের জন্য আবেদন করেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন আমিনুল ইসলাম ওরফে আল আমিন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাহমিনা পারভীন, ঈমান আলী ও শহিদুল ইসলাম। নিয়োগ কমিটির লোকজন আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে পাঁচজনের আবেদনপত্রই বাতিল বলে ঘোষণা করেন। সে হিসেবে আমিনুল ইসলামের আবেদনপত্রও বাতিল করা হয়েছিল। অথচ সেই আমিনুল ইসলামও গতকাল লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

ঘুষ নিয়ে প্রার্থী মনোনীত করার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ওই কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. একরামুল হক ও সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক। তাঁরা লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, অধ্যক্ষকে আট লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন আমিনুল। তাঁর নিয়োগ পাকাপোক্ত করতে আরো তিনজন ডামি প্রার্থীকেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

গতকাল দুপুর আড়াইটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শেষে সংসদ ভবনের এলডি হল ভবনের দুই তলায় অনেকেই হাঁটাহাঁটি করছে। পরীক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলাবলি করছেন, ‘পরীক্ষায় ভালো করলেই কী আর খারাপ করলে বা কী। টাকা তো আর এমনি এমনি দেইনি। ’ কেউ বলছিলেন, ‘এত দূর পরীক্ষার জন্য না আনলেই পারত। 

সব কিছু করছে, এটা কি করতে পারত না। ’ এরই মধ্যে দুজন পরীক্ষার্থী নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ফুরফুরে মেজাজে বেরিয়ে আসেন। পরীক্ষা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তাঁদের একজন বলেন, ‘হ্যাঁ ভাই, পরীক্ষা দিয়েছি, ভালো হয়েছে। ’ অন্যজন বলেন, ‘পরীক্ষায় কি আসে যায়, যা হওয়ার আগেই হয়েছে। ’ দুজনই সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের পদে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।

নিয়োগ পরীক্ষা কুড়িগ্রাম কিংবা ফুলবাড়ী না হয়ে এখানে কেন হচ্ছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাতীয় পার্টির লোক, আর সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজন যদি কোনো হামলা করে এ জন্য হয়তো সংসদে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এখানে নিরিবিলি পরীক্ষা দিতে পেরেছি। ’
তাঁদের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকেই ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি সবাইকে দুপুরের খাবারের জন্য ডাকাডাকি শুরু করেন। বলতে থাকেন, ‘খাবার রেডি, খাবার রেডি। এমপি সাহেব আপনাদের সবার জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। দেরি করবেন না, আসেন আসেন। ’ 

আপনি কি সংসদ ভবনে এমপির কার্যালয়ে চাকরি করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রজ্জব আলী নামের ওই ব্যক্তি বলেন, ‘নারে বাবা, আমি ফুলবাড়ী কলেজের অভিভাবক কমিটির সদস্য। এমপি খুব ভালা মানুষ। এত দূর থেকে মানুষ পরীক্ষা দিতে আসছে, খাবার না খাওয়ালে কি হয়?’  

এরই মধ্যে বাইরে থেকে খাবার আসতে থাকে। ভাত, মাছ, মাংস, সবজিসহ বাহারি সব পদের ব্যবস্থা ছিল। এমপির কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে চেয়ার-টেবিলে বসে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা খাওয়া শুরু  করে। খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী বলেন, ‘যাঁর যতটুকু লাগবে নিয়ে খান, খাবারে কোনো কমতি নেই। এমপি সাহেব বেশি বেশি করে খাবার পাঠিয়েছেন আপনাদের জন্য। ’ 

দোতলার বারান্দা থেকে একটু ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল ডাইনিং টেবিলে বসে খাচ্ছেন ৮-১০ জন। ভেতরে কারা খাবার খাচ্ছেন? জানতে চাইলে একজন কর্মী বলেন, ‘ওনারা কলেজের প্রিন্সিপালসহ নিয়োগ বোর্ডের লোক। আর বাইরে খাবার দেওয়া হচ্ছে নিয়োগ পরীক্ষায় যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁদের। ’
রজ্জব আলীর সঙ্গে থাকা আরেকজন বলেন, ‘আমার নাতনি পরীক্ষা দিতে এসেছে, তার নাম প্রিয়া আক্তার। ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছে। ’আমিনুল ইসলামের বাবা আদম আলী বলেন, ‘আমার ছেলে লাইব্রেরিয়ান পদে পরীক্ষার জন্য এসেছে। ’ এই পদে কতজন পরীক্ষা দিয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ পদে চারজনের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এসেছে তিনজন। এর মধ্যে আমার ছেলেরটা কনফার্ম। অন্য দুজন প্রক্সি দিতে এসেছে। ’

এরই মধ্যে গোলাম ওয়াদুদ নামের একজন বলেন, ‘আমি ভাইস প্রিন্সিপাল পদের জন্য পরীক্ষা দিতে এসেছি। এখন কাশিপুর কলেজে শিক্ষকতা করছি। ’ পরীক্ষার কেন্দ্র সংসদ ভবনে কেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এলাকায় পরীক্ষা হলে একটু সমস্যা হতে পারে, এ জন্য এখানে নেওয়া হচ্ছে। এমপি সাহেব কমিটির সভাপতি, তিনি অসুস্থ, তাই এখানে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রবেশপত্রেও এখানের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগগুলো এমনই হয়ে থাকে। ’ পরীক্ষার সময় ছিল আধা ঘণ্টা। ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। 

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই কলেজের পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘এমপি আর অধ্যক্ষের কারসাজিতে নিয়োগ চলছে। এখানে তাঁদের প্রার্থীর সঙ্গে ডামি প্রার্থীও আসছে তিনজন করে। নিয়োগ স্বচ্ছ করার জন্য ডামি প্রার্থীদের নিয়ে আসা হয়েছে। এক কোটি ৭০ লাখ টাকার খেলা হয়েছে। এ জন্য ফুলবাড়ীতে পরীক্ষা না নিয়ে গোপনে সংসদ ভবনে পরীক্ষা নিচ্ছে। ’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষার সময় থাকার কথা ছিল কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সাবিহা খাতুনের। তবে তিনি ছিলেন না। তাঁর পক্ষে তাঁর কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালকে পাঠিয়েছিলেন। সাবিহা খাতুন বলেন, ‘আমার যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমার পরিবর্তে কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে ভাইস প্রিন্সিপাল ওবায়দুল কাদের মিয়াজীকে পাঠানো হয়েছে। তবে কোথায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে সেটা আমার জানা নেই। ’

ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত হোসেন  দাবি করেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো জালিয়াতি করা হচ্ছে না। কারো কাছ থেকে টাকাও নেওয়া হয়নি। সঠিক নিয়মেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। যাঁরা এখন এমন অভিযোগ করছেন তাঁরা মিথ্যা বলছেন। ’ সংসদ ভবনে পরীক্ষা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব ঢাকায় থাকেন, তাই ঢাকায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।' সূত্র: কালের কন্ঠ

এমএনজে