বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায় নদীতীর ভাঙতে শুরু করেছে। ভাঙনের তীব্রতায় তীরবর্তী গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার নীড় ছেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর তীরসংলগ্ন ধুনট উপজেলার কমপক্ষে ৬০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
নদীতীর ভাঙতে থাকায় দুই গ্রামের বেশকিছু পরিবার এরই মধ্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর তীরসংলগ্ন ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল জানান, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের কৈয়াগাড়ী বরইতলী, পুকুরিয়া, ভুতমারিসহ কয়েকটি গ্রাম রক্ষায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেখানে সিসি ব্লক ও বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ধুনট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায় মঙ্গলবার থেকে প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়। এ অবস্থায় প্রকল্প এলাকা রঘুনাথপুর গ্রামের নিকট তিনটি স্থানের প্রায় ২০০ মিটার ভেঙে যায়। এটি মেরামত না হতেই বৃহস্পতিবার নদীতীর ভাঙতে শুরু করে। বিস্তীর্ণ আবাদি জমি নদীবক্ষে হারিয়ে যাচ্ছে। যমুনা নদীর তীরসংলগ্ন বেশকিছু পরিবার নীড় ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কিছু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রঘুনাথপুর গ্রামের নীড়ছাড়া ছলিম উদ্দীন ও সালেক আলী জানান, বৃহস্পতিবার ব্যাপকহারে তীর ভাঙা শুরু করে। এটি তাদের ভিটের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে বিকেলের মধ্যে তারা বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
ধুনট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলায় যমুনার তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ১০-১২টি পরিবার নিজ নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুন-উর রশীদ জানান, যমুনা নদীর পানি প্রবল বেগে তীরে আছড়ে পড়ছে। ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধুনট উপজেলার বরইতলী গ্রামের ৬০ মিটার এলাকা ভেঙে গেছে। আরও কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বর্ষাকালে সকল নদীই কম-বেশি ভাঙে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেআই





