নড়াইলের মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরূদ্ধে ধর্মীয় কাজের জন্য বরাদ্দ নিয়ে ২৮টন জিআর’র চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসি অভিযোগ করে জানান, নামযজ্ঞানুষ্ঠান ও আগতদের আহার্য বাবদ ১৪ টি প্রকল্পে ২টন করে চাল বরাদ্দ নিয়ে কোথাও কোন নামযজ্ঞ না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামে সাতঘরিয়া কৃষ্ণ মন্দির একটি মাত্র মন্দির রয়েছে। এ মন্দিরে কোন নামযজ্ঞ হয়নি।
এ গ্রামেই আরোও ৮ টি প্রকল্প দেখানো হয়েছে বিভিন্ন ভুয়া মন্দিরের নামে। এমনকি একটি ভুয়া প্রকল্পের নাম দু’বার ব্যবহর করা হয়েছে। প্রকল্পগুলি হচ্ছে- সুকুমার বিশ্বাসের বাড়ির মন্দিরে নামযজ্ঞ,বাদল হালদারের বাড়ির সামনে মন্দিরে নামযজ্ঞ, নৃপেন মজুমদারের বাড়ির সামনে মন্দিরে নামযজ্ঞ, সাতঘরিযা পূর্বপাড়া বারোয়ারী মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, সাতঘরিয়া দক্ষিণ পাড়া মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ,সাতঘরিয়া স্কুলের পাশে মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, সাতঘরিয়া নিমাই বাগচির বাড়ির পাশে মন্দিরে হরিসভা।
এসব ভুয়া প্রকল্পের মধ্যে ৩ টি প্রকল্প যথা-সাতঘরিযা পূর্বপাড়া বারোয়ারী মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ, সাতঘরিয়া নৃপেন মজুমদারের বাড়ির সামনে মন্দিরে নামযজ্ঞ ও সাতঘরিয়া বাদল হালদারের বাড়ির সামনে মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের পিআইসি হয়েছেন সাতঘরিয়া গ্রামের বাদল হালদার। সাতঘরিয়া স্কুলের পাশে মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান নামে দু’বার দুটি প্রকল্প দেখানো হয়েছে যার পিআইসি সাতঘরিয়া ওয়ার্ড মেম্বর নিলকান্ত মোহন্ত।
সাতঘরিয়া গ্রামের অশোক মল্লিক, বিদ্যুৎ মল্লিক সহ আরোও অনেকে জানান, তাদের গ্রামে কোন নামযজ্ঞ হয়নি। তারা ধর্মের নামে চাল এনে আত্মসাতকারিদের বিচার দাবি করেন । ৩টি ভুয়া প্রকল্পের পিআইসি সাতঘরিয়া গ্রামের বাদল হালদার এবং ২টি ভুয়া প্রকল্পের পিআইসি সাতঘরিয়ার নিলকান্ত জানান, চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর প্রতিটি প্রকল্প বাবদ মাত্র ২ হাজার করে টাকা দিয়ে কাগজপত্রে সাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। তারা আরোও জানান, একই এলাকায় এতো নামযজ্ঞ করলে মানুষ আসবে না, তাই কোন নামযজ্ঞ করা হয়নি।
এছাড়া ইচড়বাহা কালি মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান ও ইচড়বাহা কলেজমাঠ বারোয়ারী মন্দিরের সমনে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান নামক প্রকল্প ২টির পিআইসি হয়েছেন পার্শ¦বর্তী বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বিপুল অধিকারী। পিআইসি বিপুল অধিকারী জানান, চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর তার আপন কাকা। কোন টাকা না নিয়েই তিনি কাকার দেয়া সকল কাগজে সাক্ষর দিয়েছেন। তবে কোন নামযজ্ঞ না হওয়ার কথা তিনি স্বিকার করেছেন। বড়েন্দার গ্রামে একটি মাত্র মন্দির রয়েছে। সেখানে কোন নামযজ্ঞ হয়নি। অথচ এ গ্রামেও ২টি মন্দিরের নাম দিয়ে ২টি প্রকল্প দেয়া হয়েছে।
এ গ্রামের পিটুল সরকারের বাড়ির পাশে মন্দিরে নামযজ্ঞ ও বড়েন্দার দুর্গা মন্দিরের সামনে নামযজ্ঞ নামে ২টি প্রকল্পের পিআইসি হয়েছেন পংকজ সরকার। পিআইসি পংকজ সরকার নামযজ্ঞ না হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, চাল বিক্রির সব টাকা চেয়ারম্যান নেছে, সামান্য কিছু টাকা দেছে। তা দিয়ে নামযজ্ঞ হয় না। আমার যেন ক্ষতি না হয়,টাকা খাইছে চেয়ারম্যান, খবর করবেন তার নামে।”
এদিকে বিভিন্ন ভুয়া মন্দিরের নাম ব্যবহার করে ধর্মের নামে জিআর’র ২৮ মেঃটন চাল আত্মসাতের ঘটনা জানতে পেরে এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা এ আত্মসাতকে ডাকাতি উল্লেখ করে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিতাকারি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নামযজ্ঞ দু’একটা করা হয়েছে।
জেড





