বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ‘আজ্ঞাবহ’ বললেও সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, তাদের উপর সরকারের কোনো চাপ নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বৃহস্পতিবার আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
ইসির সমালোচনামুখর বিএনপি আগে থেকেই নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটিকে সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ বলে আসছিল। ইউপি নির্বাচন নিয়ে সেই সমালোচনা আরও তীব্র হয়।
এরমধ্যে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ জানাতে আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি দল বুধবার সিইসির সঙ্গে দেখা করেন।
এরপর মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, “ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ; সরকারের থাবায় রয়েছে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।”
তবে ইসির ‘সদিচ্ছা রয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন মঈন খান, যাকে স্বাগত জানিয়েছেন সিইসি।
তিনি বলেন, “আমাদের সদিচ্ছার কথা উনারা বলেছেন-আলহামদুল্লিাহ। তবে সরকারের কোনো চাপ নেই। কোনো পক্ষ থেকে আমাদের ফোন করেনি।”
ইসি আইন অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন কাজী রকিব।
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে ঢালাও অভিযোগ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ঢালাও অভিযোগ করে লাভ নেই। স্থান-কাল-পাত্র উল্লেখ করে অভিযোগ দিতে হবে।”
অনেক ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, “মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারছে কি না, তাই আসল বিষয়। মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারলে একজন প্রার্থী হল, না কি ১০ জন প্রার্থী হল, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয় না।”
বিএনপির অভিযোগ আমলে নিয়ে মনোনয়নপত্র একাধিক স্থানে জমা নেওয়ার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে করেছে ইসি। এরপর অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার সুযোগ করে দেওয়া হবে বলেও জানান সিইসি।
বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে গোলযোগের শঙ্কা
ইসিতে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, সভায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের এলাকায় মারামারি-সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন, বিশেষ করে যেসব ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই, কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছে সেখানে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে। যেসব ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা প্রতিপক্ষের সঙ্গে এতে ইন্ধন যোগাতে পারেন।
এক্ষেত্রে অপরাধীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রেপ্তার অভিযান জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলো সব ভালো হয়েছে তা বলা যাবে না। দু’একজনের অপকর্মের কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এবার তার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল কমিশন বিমাতাসুলভ আচরণ করে বলে অভিযোগ করে, আরেকটি দলের অভিযোগ কমিশন সরকারের পকেটে ঢুকে গেছে। দুটি দলের কোনো অভিযোগ যেন সত্য না হয়, সেই অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।”
সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, “দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য সবার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটছে না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বলেছি। এবার যেন একটি ঘটনাও না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তাদের নির্দেশ দিয়েছি।”
ভোটের তথ্য সংগ্রহে ভোটকেন্দ্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা না করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন কাজী রকিব।
“আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের আমি বলে দিয়েছি-সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করবেন; তাদেরকে যেন কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে।”
তবে ভোট প্রদানের গোপনীয় কক্ষে সাংবাদিকদের না থাকার পরামর্শও দেন সিইসি।
এআইজে





