যে বয়সে হেসে-খেলে দুরন্তপনায় মেতে উঠবার কথা শিশু শিপনের; সেখাসে মাত্র দশ বছর বয়সেই সংসারের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। এই অল্প বয়সেই অভাব আর অনোটনের কাছে পরাস্ত হয়েছে শিপন। শখ আর আল্লাদের লাগাম টেনে এখন সে একজন বাদাম বিক্রেতা।

কয়েকমাস আগে বাবা মারা গেছেন। মা অন্য আরেক জায়গায় সংসার পেতেছেন। জীবন যুদ্ধে হারনা মানা শিপন এখন বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। শিপনের ঘরে অসুস্থ্য দাদীর ঔষধ কেনা, ছোট-বড় দুই বোনের মুখে খাবার তুলে দেবার জন্য সে তার বাবার রেখে যাওয়া বাদামের ডালা নিয়ে ছুটে চলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার স্কুল, কলেজ, বাজার, খেলার মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায়।

এই বয়সে বাদাম বিক্রির কারন জানতে চাইলে শিপন বলেন, ‘না খেয়ে ঘরে শুয়ে থাকলে কেউ এক মুঠো খাবারের কথা বলে না। দাদির ঔষধ কেনা তো আছেই তারপরেও রয়েছে ছোট-বড় দুই বোন। এখন আমি বাধ্য হয়েই লেখাপড়ার চিন্তা বাদ দিয়ে বাপের রেখে যাওয়া এই পেশায় নামছি। স্কুল যদি যায় তাহলে আমার সংসার চালাবে কে? প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালায়’।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নে যদুবয়রা গ্রামের হতদরিদ্র মৃত আরিফ (৩০)’র ছেলে শিপন। বাবা গত রমজান মাসে আকষ্মিক মৃত্যুবরণ করেন। সংসারে আর তেমন কেউ কর্মক্ষম না থাকায় বাবার বাদাম বিক্রির কাজটি করতে শুরু করে শিপন। বৃষ্টি বা অন্য কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলে অধিকাংশ দিনে তাদের না খেয়ে দিন অতিবাহিত হয়। মা যেন থাকতেও নেই।

শিপন জানায়, তার ২বছর বয়সের সময় মা তাদের ভাই-বোনদের রেখে পাশের গ্রামের অন্য একটি ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এক পর্যায়ে সে রাগে ক্ষোভে বলে আমার মাও মারা গেছে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জহির রায়হান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে শিশু শিপনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সেই সাথে শিশুটিকে তার ভাই-বোনসহ সরকারি শিশু পরিবার (বালক), সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এবং শেখ রাসেল শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।

কুদরতে খোদা/ এমবিএইচ