বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সরকারের আইএপিপি প্রকল্পের মাধ্যমে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুড়িগ্রামের মৎস্যজীবীরা। সেই সঙ্গে জেলায় মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২ হাজার মেট্রিক টন । যার বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা।
কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার ৫৫ ইউনিয়নে এ প্রকল্পের মাধ্যমে তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয় মাছের ৩০২টি প্রদর্শনী খামার ও ৫ হাজার সদস্যকে মৎস্য চাষে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় বৃহৎ জলাশয়ে ১টি করে নিবিড় মনোসেক্স তেলাপিয়া, একটি করে থাই কই চাষ ও একটি করে রুই জাতীয় মাছের প্রদর্শনী করতে মৎস্যজীবীদের দল গঠন করে সহায়তা দেওয়া হয়।
এছাড়াও ৫ হাজার মৎস্যজীবীকে ২ হাজার ১৮০ টাকা মূল্যের পোনা সরবরাহ, প্রদর্শনী খামারিদের ১৫ হাজার টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকার উৎপাদন সামগ্রী এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মৎস্য চাষে আগ্রহ বেড়েছে অন্যদিকে মৎসজীবীরা লাভবান হচ্ছেন।
রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের মৎস্যচাষি হামিদুল ইসলাম লেবু জানান, আগে সনাতনি পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতাম, এতে তেমন লাভ হত না। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমি প্রশিক্ষণ নিয়ে এক বিঘার পুকুরে মনোসেক্স তেলাপিয়ার চাষ করে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এখনো পুকুরে অনেক মাছ আছে। আমার মতো অনেক মৎস্যজীবী থাই কই ও কার্প জাতীয় মাছ চাষ করে লাভবান হয়েছেন।
আইএপিপি প্রকল্পের জেলা কোর্ডিনেটর মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বৈরী পরিবেশ ও মৎস্য চাষে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও দারিদ্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর আইএপিপি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. জিল্লুর রহমান জানান, জেলার ৯ উপজেলার ৫৫ ইউনিয়নে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে আইএপিপি প্রকল্পের মাধ্যমে মাছ চাষের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এতে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২ হাজার মেট্রিক টন । যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা।
কুড়িগ্রমের মাছ চাষের উন্নয়নে সরকারের এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন মৎস্যজীবীরা উপকৃত হবেন অন্যদিকে জেলার মাছের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা যাবে এ সব মাছ।
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





