পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের লাখো বাঙালি মায়া-মমতা আর ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধনে মিলেছে। কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়া আত্মীয়রা পরস্পর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দূর থেকেই। দীর্ঘ এক বছর পর দুই আলাদা দেশের নাগরিক স্বাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় মিলন মেলায় পরিণত হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ৭৪৩ ও ৭৪৪ নম্বর মেইন পিলারের মধ্যবর্তী প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৪৭’এ পাক-ভারত বিভক্তির পূর্বে পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে ছিল। পাক-ভারত বিভক্তির পর এসব এলাকা বাংলাদেশের অর্ন্তভূক্ত হয়। এতে উভয় দেশের নাগরিকদের আত্মীয় দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
জলপাইগুড়ি জেলা শহরের আসির উদ্দিনের (৬৫) সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী এলাকার মসলিমা খাতুন। দীর্ঘ ১ বছর পর নববর্ষ উপলক্ষে ভাই-ভাবীর সঙ্গে দেখা করেছেন। দেখা করতে পেরে খুশি। তিনি জানান, এর জন্য দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়।
ঠাকুরগাঁও শহরের মেরিনা বেগম ভারতের কুচবিহার এলাকায় বসবাসরত খালাতো ভাইবোনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। দেখাও করেছেন। কিন্তু এভাবে দেখা করতে তাদের কষ্ট হয়। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখা করে শান্তি পাননি। কোনও একটি স্থানে ভালোভাবে দেখার সুযোগ করে দেবে উভয় দেশের সরকার, এমন দাবি করেন তিনি।
ভারতের সীমান্তরক্ষি বাহিনীর (বিএসএফ) খালাপাড়া ক্যাম্প ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অমরখানা ক্যাম্পের সদস্যরা এই মিলনমেলায় উভয় পাশে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল হক বলেন, দুই দেশের নাগরিক যাতে দেখা করার সুযোগ পান এজন্য আমরা বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করি। বছরে এই একটি দিন উভয় দেশের নাগরিকদের একটা বিরাট পাওনা। মিলনমেলা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জেআই





