গাজীপুরের টঙ্গীতে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের দুগ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও পাঁচ শতাধিক মুসল্লি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।
এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক একেএম কাওসার চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংঘর্ষের মধ্যে ইসমাইল মণ্ডল (৭০) নামে মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ৫ দিনের জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাওলানা সা’দ আহমাদ কান্ধলভী ও মাওলানা যোবায়ের আহমেদপন্থীরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিবদমান তাবলিগ জামাতের দুপক্ষ নিয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার বিকালে সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
কয়েক মাস আগে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা ভারতীয় মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভীর কিছু বক্তব্য দিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ছড়িয়ে পড়ে।
সাদ কান্ধলভী বলেছিলেন, 'ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়।' কান্ধলভীর ওই বক্তব্যের মধ্যে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড পড়ে বলে মনে করা হয়।
এছাড়াও সাদ কান্ধলভী বলেছিলেন, মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের মাদ্রাসার ভেতরে নামাজ না পড়ে মসজিদে এসে নামাজ পড়া উচিত- যাতে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে।
কান্ধলভীর এসব বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন তাবলিগের অনেক শীর্ষ নেতা ও তাদের অনুসারীরা। তাদের দাবি সাদ কান্ধলভী যা বলছে, তা তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের নির্দেশিত পন্থার বিরোধী। কান্ধলভীর কথাবার্তা আহলে সুন্নাত ওয়া'ল জামাতের বিশ্বাস ও আকিদার বাইরে।
গত জুলাই মাসে মাসে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতিতে তাবলিগ জামাতের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে শনিবার টঙ্গীতে যে সংঘর্ষ হয়েছে তার সঙ্গে হেফাজতের কোনো লোক জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মো. ফয়জুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, এখানে হেফাজত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এএস





