ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ভারতের মধ্যে লাদাখে সংঘটিত সীমান্ত সংঘর্ষ দুর্ভাগ্যজনক। চীন এবং ভারত দুটি দেশই সামরিক শক্তিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর, এর আগে বেশ কয়েকবারই তারা সীমান্তে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই দেশের মধ্যকার যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অর্থাৎ লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি সেটিও অত্যন্ত দুর্বল।

চীন এবং ভারত দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি নদী, হ্রদ এবং শৈলপ্রবাহ প্রবাহিত হয়েছে, যার মানে হচ্ছে সীমানা যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরো সংঘর্ষের উস্কানি হিসেবে কাজ করবে। দুই দেশের যে সমস্ত সৈন্য মারা গেলো তার জন্য কে দায়ী? নিঃসন্দেহে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এ সীমান্ত সমস্যার সৃষ্টি কিন্তু দীর্ঘ ৭৩ বছরে এ সমস্যার সমাধান হলো না কেন? রাজনীতিবিদরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

আজ এসব রাজনীতিবিদের ব্যর্থতার জন্য নিরিহ সৈন্যদের প্রাণ দিতে হলো। সকল সীমান্ত সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের।তারা সেটা না পারলে International Court of Justice এর স্মরণাপর্ন হওয়ার প্রয়োজন ছিল।

এ ভাবে দীর্ঘ দিন একটি জটিল সমস্যা চীন ও ভারতের ফেলে রাখা কোন ভাবেই ঠিক হয়নি। আশা করি দুই দেশের সরকারের বোধহয় হবে। তারা Long pending এ সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের স্মরনাপর্ন হবে। যুদ্ধ করে এ সমস্যা কোন দিন মিটবেনা।

যুদ্ধ কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনেনা- এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য কথন। বিশ্বের শান্তিকামী সাধারণ মানুষ যুদ্ধ চায়না কখনো, কিন্তু তারপরও ক্ষমতাসীন মহলের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই মরণ খেলায় মেতে উঠে। ডেকে আনে দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি।

পরিশেষে বলবো, আলোচনার টেবিলেই সমাধান হোক চীন-ভারতের সকল বিরোধের; যুদ্ধের ময়দানে নয়। যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।

লেখক: মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক, গণমাধ্যম কর্মী।