শেখ মুজিব ও বাংলাদেশ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে কল্পনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক ও জাতীয় বীর। তিনি ছিলেন খাঁটি দেশপ্রেমিক। তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বাংলার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

রাজনীতিতে আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চায় এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু। অন্য রাজনীতিবিদদের তিনি রোল মডেল। তাই ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একটি হিরণ্ময় নাম।মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই র্মাচ ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু মুজিব বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

২০০৪ সালে বিশ্বব্যাপী বিবিসির বাংলাভাষী শ্রোতা জরিপে 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি' নির্বাচিত হন বাংলা ও বাঙালির মহান সন্তান শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বের ১০টি শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণের অন্যতম।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবের অনন্য নেতৃত্বের জন্য ১৯৭১-এর ৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন 'নিউজ উইক' এই মহান নেতাকে 'রাজনীতির কবি' হিসেবে উল্লেখ করেন।


২৩ জুন পলাশির যুদ্ধে মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজুদ্দৌলা পরাজিত হলে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। পলাশির পরাজয়ের ২১৪ বছর পর ১৯৭১ সালে বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীন আবাসভূমি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস গৌরবের। '৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মধ্যে দুর্ধর্ষ সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত প্রবল পরাক্রমশালী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৯৩ হাজার সেনা সদস্য বাংলার দামাল মুক্তিবাহিনীর কাছে নাকে খত দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।

মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে সম্মুখ সমরে হাসতে হাসতে জীবন দিয়েছেন। একাত্তর বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এক গৌরবময় হিরণ্ময় সময়। সে সময় সাড়ে সাত কোটি বাঙালি শেখ মুজিবের নেতৃত্বে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন, এই ধরনের ঐক্যের কোনো দ্বিতীয় উদাহরণ হাজার বছরের ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

২৭ বছরের যুবক শেখ মুজিব ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। আর সেই মুজিব আমেরিকা, চীনসহ বহু রাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও মাত্র ২৩ বছরের মাথায় পাকিস্তান ভেঙে চুরমার করে দিলেন। মুজিবের অতিমানবীয় নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে শুধু ঐক্যবদ্ধ করেনি, বাঙালিকে বীরের জাতিতে পরিণত করে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো দেশে কোনো বিরোধী দল ছিল না। এই পরিস্থিতিতে যুব নেতা শেখ মুজিব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ৪ মাস পর ১৯৪৮-এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে ছাত্রলীগের মাধ্যমে মুজিব বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনকে ধীরে ধীরে কীভাবে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে গেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সূর্যোদয়ের আগেই ঘটেছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ঘটনা। কিছু সংখ্যক উচ্ছৃংখল সৈনিকের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিয়েছিলেন বাঙ্গালীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্টের সেই সর্বনাশা রাতের দৃশ্যপট মানস চোখে একবার ভেসে উঠলেই শিহরিত হতে হয়। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়ির সিঁড়িতে জাতির

জনকের রক্তাক্ত মৃতদেহ। 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম'। বাঙালির প্রাণের ধ্বনি বাঘের গর্জনের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ। আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনেনর পথ প্রদর্শক, এদেশের প্রাণপুরুষ-সর্বকালের সেরা বাঙালি,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মানেই স্বাধীন বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা মানে শেখ মুজিব, উত্তাল গণঅভূ্যত্থান, ৭ মার্চের ভাষণ, পাক সেনাদের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রাণবাজি রেখে লড়াই।

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে কেনা বাংলাদেশ, দুই লাখ মা-বোনের জীবনের বিনিময়েকেনা বাংলাদেশ। ঘাতকের ভয়ঙ্কর ছোবলে শোকার্ত ১৫ আগস্ট এর মানে রক্তাক্ত স্বাধীনতা, খুনির বুক ফুলিয়ে চলার মানে লজ্জিত স্বীধীনতা, অস্ত্রহাতে মতা গ্রহণ মানে ধর্ষিত স্বাধীনতা, সামরিক শাসকদের স্বেচ্ছারিতা মানে বিবস্ত্র স্বাধীনতা। রাজাকারের মতায়ন-পাকপন্থীদের রাজনীতি-ঘাতকদের পুনর্বাসন-

জিয়া-নিজামীর মিলনে অসত্দমিত স্বাধীনতা। শোষকের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের মাঝে বোনা থাকে স্বাধীনতার বীজ, জঙ্গির আত্মহনন লুটে নিতে চায় বাঙালির স্বাধীনতা। স্বাধীনতার প্রধান শত্রু রাজাকার ও তার পালনকর্তা, খুনির নিরাপত্তা দানকারীর ইপ্সা প্রতিবাদের স্বাধীনতা হরণ, দ্বারে দ্বারে অত্যাচারিত ব্যক্তি স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা বোবা কান্নায় বন্দী, তবুও আমরা চাই বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত স্বাধীনতা।

এমবিএইচ