বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় সদ্য বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার ও তার শ্যালিকা পৌর কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকির দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ শুক্রবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবিব এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলায় তুফানের তৃতীয় দফা ও রুমকির প্রথম দফা রিমান্ড।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে দুই দিন করে মঞ্জুর করেন। এছাড়া তুফানের সহযোগী মুন্না একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্রবার বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় (ধর্ষণ) তুফান, রুমকি ও মুন্নাকে আদালতে হাজির করা হয়।

মুন্না আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তুফান ও রুমকিকে দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মুন্নাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, আশা ও রুমকিকে জিজ্ঞাসাবাদে জেলগেটে যাওয়া সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৭ জুলাই ভালো কলেজে ভর্তির কথা বলে সদ্য মাধ্যমিক পাস করা এক শিক্ষার্থীকে বাসায় এনে ধর্ষণ করেন বগুড়া শহর শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) তুফান সরকার। এরপর শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকেলে তুফানের স্ত্রী আশা, তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি ও তার মা রুমি বেগমসহ তাদের সহযোগীরা কাউন্সিলরের চকসুত্রাপুর এলাকার বাসায় শালিসের নামে মা-মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন করে।

তুফান বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মা-মেয়ের মাথার চুল কেটে। এরপর নাপিত ডেকে দু’জনের মাথা ন্যাড়া করে বাড়ি পাঠানোর সময় বগুড়া ত্যাগ করতে হুমকি দেয়। এমনকি মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে বাড়িতে পিকআপ ভ্যানও পাঠায়।

এমবি